মিশিগানের হ্যামট্রামিক সিটির সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী দুই বাংলাদেশিসহ কাউন্সিল ম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৭ জানুয়ারি) সিটির ক্যানিফ স্ট্রীটটে অবস্থিত হ্যামট্রামক পাবলিক লাইব্রেরিতে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দুপুর ২টায় শুরু হওয়া শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শপথ নেন পুনরায় নির্বাচিত কাউন্সিল ম্যান মোহাম্মদ কামরুল হাসান, মোহাম্মদ আলসোমিরি ও নবনির্বাচিত কাউন্সিল ম্যান মোহতাসিন সাদমান।
উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হ্যাম্ট্রামিক সিটি কাউন্সিলের মেয়র আমির গালিব। তিনি বলেন, গত একযোগ থেকে হ্যামট্রামিক আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তারপরও বেশ কিছু সফলতা এসেছে যেমন জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ইকোনোমিক গ্রোথ ও আর্থিক উন্নয়ন। অর্থিনীতিবিদরা ধারণা করেছিলেন আমাদের শহর ধ্বংস হয়ে যাবে, বছর ঘুরতেই তারা বললো ’তোমরা অনেক ভাল করছো, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চালিয়ে যাও।
গালিব বলেন, আমরা দল হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি সময় কাজ করেছি এবং হ্যামট্রামিকের রাজনীতিতে একে অন্যের প্রতি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়েছি । এখন সময় এসেছে সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলার, যা সর্বস্তরের মানুষকে আকর্ষণ করবে। অতীতে আমরা অধিক সংখ্যক বিনিয়োগকারীকে কাছে টানতে পেরেছি যার ফলে শহরে অনেক বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। যা হ্যামট্রামিকের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরীতে ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, আমরা বহু সংখ্যক আন্ডার গ্রাউন্ড স্থাপত্য তৈরী করেছি, উন্নতি সাধন করেছি যার সংখ্যা একসময় বহু গুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে প্রথমে আমাদের আন্ডার গ্রাউন্ডের কাজ গুলি সম্পাদন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হবে। আপনাদের লিভিং কস্ট (বাড়ি ভাড়ার পরিমান) বৃদ্ধি পেতে পারে, যেহেতু আরো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তৈরীর জন্য প্রচুর বিল্ডিং প্রয়োজন।
মি. গালিব বলেন, মোটা অংকের টাকা খরচ করে আমরা হ্যামট্রামিক সিটি কাউন্সিলের উন্নয়নকল্পে অনেক গুলো ট্রাক ক্রয় করেছি, কেনা হয়েছে দরকারি যন্ত্রাংশ। তাছাড়া হ্যামট্রামিকে দারিদ্রতার হার আমরা কমাতে পেরেছি। পুলিশ ডিপার্টমেন্টের জন্য আমরা সব কিছু করে যাচ্ছি যেন সব কিছু তাদের জন্য সহজ হয় তারা অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আন্তে সক্ষম হন। তাছাড়া ফায়ারসার্ভিস ডিপার্টমেন্টের জন্যেও প্রয়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ করার চেষ্টা করছি।
গালিব বলেন, নতুন কিছু করার জন্য আমরা ভবন কিনেছি। ডেট্রয়েটে ভাড়া নেওয়ার পরিবর্তে আমাদের নিজস্ব বিল্ডিং করেছি। আমরা সিটি হলে ঈদের ছুটিকে ড্যানফোর্ড করতে সক্ষম হয়েছি । আমরা বিনামূল্যে পার্কিং বিতরণ করেছি। আমরা ফায়ার সার্ভিসের জন্য পরিকল্পনা করেছি । আমাদের বাসিন্দাদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। ৬শ স্কয়ার ফিটের মধ্যে ৩ তোলা বিল্ডিং বানানোর অনুমতি দিয়েছি। সর্বপরি নাগরিক জীবন মান উন্নয়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। এই সব বিষয়ের আমাদেরকে সহযোগিতা ও সমর্থন দেয়ার জন্য কমিউনিটি লিডারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
পুনরায় নির্বাচিত কাউন্সিল ম্যান মোহাম্মদ কামরুল হাসান উপস্থিত সবাইকে সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আপনাদের ভালোবাসায় আমি প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছিলাম ২০০৯ সালে। তখন থেকে আমি একজন কাউন্সিলম্যান হিসাবে হ্যামট্রামিকের জন্য সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করেছি। আমি নিজের পছন্দকে উপেক্ষা করে হ্যামট্রামিকের পছন্দকে গুরুত্ব দিয়েছি। আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসাকে সম্মান জানিয়ে হ্যামট্রামিকের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং যাবো।
তিনি বলেন, আমি সিটি কর্মকর্তাসহ সালেহ আল জাহিম, লোকমান সালেহ, মনসুর আল জায়িম, আবু আলী, মি ফয়সল, মোতাহের ফাদেল, ব্রাদার নাবিল, ব্রাদার সাদিক ও তার পরিবার, রিভিও পত্রিকার সাংবাদিক এবং অনুষ্ঠানে আগত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সমাজ সেবক, গণমাধ্যমর্কী ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পুরো অনুষ্ঠানে রিফ্রেশমেন্ট, নাস্তা এবং ফটোসেশন ছিলো বেশ উপভোগ্য।
মন্তব্য করুন