দশ বছরের শিক্ষাজীবনের পথ পেরিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে এ+ পেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সাবরিন আরিয়ান রোদেলা। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলের এই কৃতী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করা।
বড়লেখা উপজেলার সুজানগর ইউনিয়নের সালদিগা গ্রামের মেয়ে রোদেলা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মনোযোগী। নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষকদের উৎসাহ-অনুপ্রেরণা তাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে বলে জানায় সে।
রোদেলার বাবা অধ্যাপক মো. জহির উদ্দিন শাহনিমাত্রা সাগরনাল ফুলতলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। মেয়ের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ প্রত্যাশা এবং প্রায় ১০ বছরের পথপরিক্রমা শেষে আমার মেয়ে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সব বিষয়ে এ+ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়েছে। তার এ সাফল্যে আমরা আনন্দিত। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। সে যেন ভবিষ্যতেও সফল হয় এবং একজন মানবিক, সামাজিক ও মার্জিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে।”
রোদেলার মা কুলসুমা আক্তার পারুল বলেছেন, মেয়ের ফলাফলে আমরা খুবই আনন্দিত। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। ভবিষ্যতে সে চিকিৎসক হতে চায়। তার স্বপ্ন পূরণে আমরা সব সময় পাশে থাকব।
রোকেয়া খাতুন লাইসিয়াম স্কুলের তার এক শ্রেণিশিক্ষিকা জানিয়েছেন, রোদেলা অত্যন্ত মনোযোগী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় সে নিয়মিত ছিল এবং ভালো ফল করার জন্য সব সময় চেষ্টা করত। এসএসসিতে সব বিষয়ে এ+ পাওয়া তার মেধা ও পরিশ্রমের ফল। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও সে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখবে এবং একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
রোদেলার পরিবারেও রয়েছে উচ্চ শিক্ষার আবহ। তার বড় ভাই সাকাব নাহিয়ান শ্রাবণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ছোট বোন শারলিন আরিয়ান হৃদি বর্তমানে একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
নিজের সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে রোদেলা বলে, “এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। বাবা-মা, ভাই ও শিক্ষকদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই।”
রোদেলার পরিবার ও শিক্ষকদের প্রত্যাশা, এসএসসির এই সাফল্য তার চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নপূরণের পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। একই সঙ্গে সে একজন মানবিক, দায়িত্বশীল ও সমাজসচেতন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলবে।
মন্তব্য করুন