লন্ডন ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে গত ৬ মে এক জাঁকজমকপূর্ণ অভিষেক অনুষ্ঠানে রাজা চার্লসকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজমুকুট পরানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের গত ৭০ বছরে এটি ছিল এধরণের প্রথম অনুষ্ঠান। রাজা চার্লসের অভিষেকের কিছুক্ষণ পরই তাঁর স্ত্রী ক্যামিলার অভিষেক হয় রানি হিসেবে। রাজা চার্লসের মাথায় রাজমুকুট পরানোর পর পরই ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির ভেতরে এবং বাইরে “গড সেভ দ্য কিং” ধ্বনি শোনা যায়।
যুক্তরাজ্য জুড়ে তোপধ্বনি দিয়ে এবং ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবির ঘণ্টা দুই মিনিট ধরে বাজিয়ে এই মূহুর্তটি উদযাপন করা হয়। হাজার হাজার মানুষ এই উৎসবে যোগ দিতে বাকিংহাম প্রাসাদ এবং ট্রাফালগার স্কোয়ারের মাঝখানের প্রশস্ত সড়কটিকে সমবেত হন।
অভিষেকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাজা চার্লস এবং রানি ক্যামিলা একটি সোনালি স্টেট কোচে বাকিংহাম প্রাসাদে ফিরে যান। এর আগে সকালে রাজা চার্লস এবং কুইন কনসোর্ট ক্যামিলা বাকিংহাম প্রাসাদ থেকে শোভাযাত্রা করে ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে এসে পৌঁছার পর সেখানে অভিষেক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
লন্ডন সময় সকাল এগারোটায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র এবং সরকার প্রধান, ধর্মীয় নেতা এবং কমনওয়েলথের নেতারা ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবিতে এসে তাদের আসন গ্রহণ করেন। বিশ্বের প্রায় ১০০টি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের উপস্থিতি ঘিরে সেন্ট্রাল লন্ডনে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়।
সত্তর বছর সিংহাসনে থাকা রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের মৃত্যুর পর তার ছেলে চার্লস রাজা হন। যুক্তরাজ্য ছাড়াও তিনি আরো ১৪টি দেশে তাকে রাজা হিসেবে মান্য করা হয়। অভিষেক অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য কয়েক মাস ধরে ব্যাপক পরিকল্পনা করা হয়।
এবারের অভিষেক অনুষ্ঠানটি যতোটা সম্ভব বৈচিত্র্যপূর্ণ করা হয়েছিল এবং আগের যে কোন অভিষেক অনুষ্ঠানের তুলনায় এবার সবচেয়ে বেশি ধর্মের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল। ইহুদী, মুসলিম, বৌদ্ধ এবং শিখ প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বাইবেল থেকে পাঠ করে শোনান প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক, যার ধর্ম হিন্দু। সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় ওয়েলস, স্কটিশ ও আইরিশ ভাষায়। হাজার বছর ধরে চলা এই অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রথমবার কোন নারী বিশপ অংশ নেন। যুক্তরাজ্যের রাজতন্ত্রের ৪০তম সিংহাসন আরোহী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস।
ক্যান্টাবেরির আর্চবিশপ জাস্টিন ওয়েলবি রাজা চার্লসের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
রাজা তৃতীয় চার্লস পবিত্র গসপেলে হাত রেখে শপথ নেন এবং আইনের শাসন ও চার্চ অব ইংল্যান্ডের মর্যাদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়া একজন ‘একনিষ্ঠ প্রোটেস্ট্যান্ট’ হিসেবে দ্বিতীয় শপথও নেন রাজা তৃতীয় চার্লস।
মন্তব্য করুন