বাংলা সংবাদ ডেস্ক
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মনোভাব: জামায়াতের সঙ্গে বন্ধুত্বের ইচ্ছা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্ব করতে চায়। দেশটির এক কূটনীতিক কয়েকজন নারী সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানিয়েছেন। তাদের এ কথোপকথনের একটি অডিও পেয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

 

 

সংবাদমাধ্যমটি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জানিয়েছে, তাদের পাওয়া ওই অডিওতে মার্কিন কূটনীতিককে বলতে শোনা গেছে, বাংলাদেশ এখন ইসলামপন্থার দিকে ঝুঁকে গেছে। এছাড়া আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন পাবে। এমন অবস্থায় তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চান। যে দল বেশ কয়েকবার— সর্বশেষ স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ হয়েছিল। ঢাকাভিত্তিক ওই কূটনীতিক নারী সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক।” এছাড়া ছাত্রশিবিরের নেতাদের টিভি অনুষ্ঠানে আনবেন কি না এমন প্রশ্নও করেন মার্কিন কূটনীতিক। সঙ্গে তিনি জিজ্ঞেস করেন, শিবির নেতারা তাদের অনুষ্ঠানে আসবেন কি না।

 

 

এছাড়া জামায়াত নির্বাচিত হতে পারলে বাংলাদেশে শরীয়াহ আইন চালু করবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ কূটনীতিক জানান জামায়াত শরীয়াহ আইন চালু করলে এর পরেরদিনই বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেছেন, তারা শুধু জামায়াত নয়— হেফাজতে ইসলাম এবং ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গেও হয়ত যোগাযোগ করবেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই তারা আমাদের বন্ধু হোক। কারণ আমরা চাই আমাদের কাছে এমন সুযোগ থাকবে আমরা ফোন দিয়ে বলব ‘আমরা কিন্তু যা বলেছি সেভাবে ব্যবস্থা নেব।”— তিনি মূলত শরীয়াহ আইন নিয়ে সাংবাদিকের উদ্বেগ নিয়ে এ কথা জানান।

 

 

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র শরীয়াহ আইন কার্যকর হতে দেবে না জানিয়ে ওই কূটনীতিক বলেন, “বাংলাদেশের পুরো অর্থনীতি, যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ রপ্তানি— নির্ভর করে পোশাক শিল্পের ওপর। যদি বাংলাদেশ নারীদের বলে পাঁচ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না, তাদের বের করে দেয় এবং শরীয়াহ আইন চালু করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের আর কোনো অর্ডার নেওয়া হবে না। আর অর্ডার না থাকার মানে হলো বাংলাদেশের অর্থনীতিও থাকবে না।” কিন্তু জামায়াত শরীয়াহ আইন চালু করবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াত এটি করবে না। কারণ দেশটিতে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এবং উচ্চশিক্ষিত অনেক লোক রয়েছে। আমরা তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেব শরীয়াহ আইন করলে কি হবে।”

 

 

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মোনিকা শিই-র কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, “এই আলোচনাটি হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এটি নিয়মিত বৈঠকের অংশ ছিল। যেখানে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা কথাবার্তা বলেন। তবে এসব কথাবার্তা বাইরে প্রকাশ করা হয় না। এছাড়া ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান তিনি।  যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান এ ব্যাপারে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, “ব্যক্তিগত কূটনৈতিক বৈঠকের ব্যাপারে আমরা কোনো কথা বলি না।”

 

 

তবে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর ওয়াশিংটনে জামায়াত-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের চারবার বৈঠক হয়েছে। অপরদিকে ঢাকায় বেশ কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রেয়ারের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক হয় জামায়াতের। আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের এমনিতেই খারাপ সম্পর্ক। এরমধ্যে তারা জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইছে। যা দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ করে দিতে পারে।

 

 

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ভারতের দীর্ঘ সময় ধরে সবচেয়ে বড় ভয় হলো জামায়াত। ভারত জামায়াতকে পাকিস্তানের মিত্র এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তার হুমকি হিসেবে দেখে।” এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও মন্তব্য করেছেন ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, “

 

 

হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করা রাজনৈতিকভাবে বেশ জিনিয়াস ছিল। যদিও এ আদালত শতভাগ স্বচ্ছ বা নিরপেক্ষ ছিল না। কিন্তু হাসিনা ছিলেন দোষী। যা তারা তাদের ম্যান্ডেটের মধ্যে থেকে প্রমাণ করেছে। যা সত্যিই অসাধারণ ছিল। ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে পতনের আগে সাধারণ মানুষের পর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন হাসিনা। এতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়।

 

 

সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন তাহমিদ চৌধুরী

১

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

২

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

৩

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

৪

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

৫

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

৬

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

৭

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

৮

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

৯

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

১০

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১১

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১৩

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৪

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৫

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৬

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৭

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৮

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৯

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

২০