৩১ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

নাগরিকত্ব পরীক্ষা আরও কঠোর: ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনায় উদ্বেগে অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অর্জনের পথ আবারও কঠিন হতে চলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন নাগরিকত্ব পরীক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে, যা অনেক প্রার্থীর জন্য নাগরিকত্ব অর্জনের স্বপ্নকে আরও দূরুহ করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কঠোর নিয়মাবলি ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা।

 

 

 

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পরীক্ষায় প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ানো হবে এবং প্রার্থীদের আরও বেশি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। এছাড়াও, একটি নতুন ভাষাগত মূল্যায়ন পর্ব যুক্ত করা হবে, যেখানে প্রার্থীদের বিভিন্ন ছবি দেখে সেগুলোকে ইংরেজিতে বর্ণনা করতে হবে। এই ছবিগুলো আবহাওয়া, খাবার বা দৈনন্দিন কাজকর্মের মতো বিষয়বস্তুর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (USCIS)-এর নবনিযুক্ত পরিচালক জোসেফ এডলো বলেছেন, “বর্তমান পরীক্ষাটি খুব সহজ, মুখস্থ করে দেওয়া যায়। এতে নাগরিকত্বের গুরুত্ব ঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।” তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তন আমেরিকার ইতিহাস ও নাগরিকত্ব সম্পর্কে প্রার্থীদের আরও ভালো বোঝার সুযোগ তৈরি করবে।

 

 

বর্তমানে, নাগরিকত্ব পরীক্ষায় ১০০টি প্রশ্নের একটি সেট থেকে ১০টি প্রশ্ন বেছে নেওয়া হয় এবং এর মধ্যে ৬টির সঠিক উত্তর দিতে হয়। পরীক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষাজ্ঞানও পরীক্ষা করা হয়। তবে প্রস্তাবিত পরিবর্তনে প্রশ্নের সংখ্যা বেড়ে ১২৮টি হবে এবং পরীক্ষার্থীদের ২০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২টির সঠিক উত্তর দিতে হবে। তবে সমালোচকরা এই পরিবর্তনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি দুর্বল ও অল্প শিক্ষিত মানুষ, বিশেষত যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চল থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য নাগরিকত্ব পাওয়া আরও কঠিন করে তুলবে। সান ডিয়েগো কমিউনিটি কলেজ ডিস্ট্রিক্টের সিটিজেনশিপ কোঅর্ডিনেটর মিশেল পেরট এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “অনেক অভিবাসী শিক্ষার্থীরই মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় পড়া-লেখার অভ্যাস নেই। ইংরেজিতে শেখা ও উত্তর দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। নতুন বহু নির্বাচনী প্রশ্নপদ্ধতিতে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠবে।”

 

 

 

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ নাগরিকত্ব পরীক্ষাকে মানকরণ করেন। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেটিকে আরও কঠোর করেছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে তা আবার সহজ করে ফেলা হয়। ট্রাম্প বরাবরই নাগরিকত্বকে “মানব ইতিহাসের সবচেয়ে মূল্যবান উপহারগুলোর একটি” বলে উল্লেখ করে এসেছেন।

 

 

২০২৪ সালে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার মানুষ আমেরিকার অভিবাসী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। মার্কিন অভিবাসন বিভাগের তথ্যসূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। এই পরিস্থিতিতে নতুন কঠোর নিয়মাবলি অনেক অভিবাসীর নাগরিকত্বের স্বপ্নকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘বেস্ট অব দ্য ওয়েস্ট ইয়ুথ লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন তাহমিদ চৌধুরী

১

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

২

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

৩

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

৪

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

৫

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

৬

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

৭

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

৮

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

৯

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

১০

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১১

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১৩

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৪

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৫

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৬

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৭

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৮

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৯

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

২০