যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন নাগরিকত্ব অর্জন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন কার্ডধারী হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান, ট্যাক্স সংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রদান কিংবা আইনগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করার মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনকে জটিল করে তুলতে পারে।
২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর ধারাবাহিক বসবাস, বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ট্যাক্স রেকর্ড এবং ভোটার নিবন্ধন বা ভোটদানের তথ্য পর্যালোচনা করতে পারে। নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক বসবাস বজায় রাখা। সাধারণ নিয়মে অধিকাংশ গ্রিন কার্ডধারীকে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে অন্তত পাঁচ বছর যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। তবে মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি হতে পারে। এ অবস্থায় আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রই তার প্রধান ও স্থায়ী বাসস্থান ছিল। অন্যদিকে একটানা এক বছর বা তার বেশি সময় দেশের বাইরে থাকলে তা নাগরিকত্বের যোগ্যতার ক্ষেত্রে আরও বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং স্থায়ী বাসিন্দা মর্যাদা বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসের শর্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয় না। এটি মূলত দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে। নাগরিকত্বের পথে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ট্যাক্স রিটার্ন। আইআরএসের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ গ্রিন কার্ডধারীরা সাধারণভাবে ফেডারেল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে রেসিডেন্ট এলিয়েন হিসেবে বিবেচিত হন এবং তাদের বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা থাকে।
এ কারণে কোনো গ্রিন কার্ডধারী যদি ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করেন, তাহলে পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় তা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী আবাস হিসেবে দাবি করার সঙ্গে এমন তথ্য সাংঘর্ষিক হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ট্রিটি বা বিশেষ কর-সংক্রান্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ভিন্ন নিয়মও প্রযোজ্য হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ভোট প্রদান। গ্রিন কার্ডধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পেলেও তারা মার্কিন নাগরিক নন। ফলে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া তাদের জন্য বেআইনি। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালের নীতিমালায় বেআইনি ভোটদান, বেআইনিভাবে ভোটার নিবন্ধন এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার বিষয়গুলো আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।
তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনের নিয়ম এক নয়। কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবুও অনুমোদন ছাড়া কোনো নির্বাচনে ভোট দেওয়া বা ভোটার নিবন্ধনের সময় নিজেকে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা গুরুতর ইমিগ্রেশন জটিলতা তৈরি করতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে এটি ডিপোর্টেশনের আইনি ভিত্তিও হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগরিকত্বের প্রস্তুতি কেবল এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু হয় না। বরং গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর থেকেই বিদেশ ভ্রমণ, ট্যাক্স রিটার্ন এবং ভোটার সংক্রান্ত বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা গোপন না করে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন