যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন অবস্থায় থাকা সাবেক সেনাদের জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে দেশটির ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ (ভিএ)। কর্মসূচির আওতায় খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্মার্টফোন, অস্থায়ী আবাসন এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভিএ জানিয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদানের জন্য এবং ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার যাতায়াত সহায়তার জন্য ব্যয় করা হবে। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সহায়তা কর্মসূচি ‘হাড-ভ্যাশ’-এ অংশ নেওয়া যোগ্য সাবেক সেনারাও এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে আগামী অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা প্রদান শুরু হতে পারে। অন্যদিকে যাতায়াত সেবার জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভিএর সচিব ডগ কলিন্স বলেছেন, গৃহহীন সাবেক সেনাদের রাস্তায় থাকা থেকে বিরত রাখতে বিভাগটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং নতুন কর্মসূচিটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সাবেক সেনারা খাবার, পোশাক, কম্বল, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য পেতে পারেন। যারা রাস্তায় বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান, তাদের জন্য তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো সামগ্রীও সরবরাহ করা হতে পারে।
আবাসন সহায়তার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সুযোগ। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এমনকি পূর্বের কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া বা বিলও নির্দিষ্ট শর্তে পরিশোধ করা হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে কোনো সাবেক সেনা আবাসন পেতে পারেন অথবা বর্তমান আবাসন ধরে রাখতে সক্ষম হন। এ ছাড়া নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি সংযোগের জামানত, বাসা বদলের খরচ এবং স্বল্পমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যয়ও সহায়তার আওতায় আসতে পারে। সাধারণভাবে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত ভাড়া ও ইউটিলিটি সহায়তা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন হলে ব্যতিক্রমের সুযোগও থাকবে।
অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রয়োজন অনুযায়ী হোটেল বা মোটেলে স্বল্পমেয়াদি থাকার ব্যয় বহন করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বিছানাপত্র, রান্নার সরঞ্জাম, ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও সরবরাহ করা হতে পারে। যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ভিএর চিকিৎসকদের সুপারিশে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন এবং ফোন সংযোগের খরচ দেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো চিকিৎসক, সরকারি সেবা প্রদানকারী, সম্ভাব্য বাড়ির মালিক এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে সহায়তা করা।
যাতায়াত সহায়তার আওতায় সরকারি পরিবহনের ভাউচার অথবা অন্যান্য পরিবহন সুবিধার মাধ্যমে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, বাসা ও চাকরি অনুসন্ধান, আদালত বা আইনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সামগ্রী সংগ্রহে সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে প্রদান করা হবে না। ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করবে অথবা সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য সরাসরি পরিশোধ করবে। সমাজকর্মীসহ ভিএর সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ব্যক্তিগত পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ধরন নির্ধারণ করবেন।
ভিএ জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় আসতে হলে একজন সাবেক সেনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহহীনতার সংজ্ঞার মধ্যে থাকতে হবে। এর মধ্যে স্থায়ী ও নিরাপদ রাতযাপনের জায়গা না থাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করা অথবা ঘুমানোর জন্য নির্ধারিত নয় এমন স্থানে অবস্থানের মতো পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভিএর তথ্য অনুযায়ী, গৃহহীন সাবেক সেনাদের সংখ্যা গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ হাজার ৪৯৫ জন সাবেক সেনা গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন, যা ২০০৯ সালে হিসাব শুরু হওয়ার পর সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
এদিকে ২০২৫ অর্থবছরে ভিএ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন গৃহহীন সাবেক সেনাকে স্থায়ী আবাসনে নিতে সক্ষম হয়েছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থবছর শেষে আবাসনে অবস্থান করছিলেন। তবে আবাসন ও জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থা জিএওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে কেস ম্যানেজারের ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পদ খালি ছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ১২৯টি ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিতে কেস ম্যানেজারের অন্তত ২০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল।
জিএও আরও জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে পাঠানোর জন্য বিবেচিত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫টি ক্ষেত্রে সাবেক সেনাদের শেষ পর্যন্ত পাঠানো হয়নি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬টি ক্ষেত্রে কারণ নথিভুক্ত করা হয়নি। ফলে কোথায় অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন এবং কতজন সাবেক সেনা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মসূচি গৃহহীন সাবেক সেনাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, আবাসন এবং অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর।
মন্তব্য করুন