২৯ অক্টোবর ২০২২, ১২:৪২ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ভাইরাল অপসংস্কৃতির কবলে সাংবাদিকতা

জুয়েল সাদত

সোস্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বাজে সংস্করন অনলাইন মোবাইল টিভির অপব্যবহার। ভাইরাল যুগে আক্রান্ত সমাজ।

রুহুল আমিন নামের একজন সমাজ সচেতন জানালেন, আজকাল নিজের স্ত্রী র সাথে মনোমালিন্য করে কেউ টিকতে পারছেন না , আপনার দরজার সামনে দশটি মোবাইল ফোন ডান্ডা লাগানো ভাইয়েরা সকালে উপস্থিত হয়ে যান। এটা কি পরিমান ভয়াবহ রুপ নিয়েছে তার ভুুক্তভোরীরা জানেন।

এই ডান্ডা লাগানো মোবাইল ফোনের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল করোনা কালীন সময় থেকে। যদিও তখন তা বাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল আলোচনা নির্ভর। আজ তার বিস্তৃতি বাংলাদেশের শহর ছাড়িয়ে গ্রামে গঞ্জে।

আগে আমরা অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে তার অপব্যবহার নিয়ে কথা বলতাম। এখন অনলাইন টিভির আগাছা গুলো নিয়ে দু:চিন্তায়। বর্তমানে ভাল ভাল জাতীয় কাগজের অনলাইন ভার্সন যেমন আছে, ঠিক তেমনি দেশের সেরা কাগজ গুলোর অনলাইন টিভির বা সোস্যাল মিডিয়ার ফেসবুক পেজেও লাইভ থাকে। এ থেকে বুজা যাচ্ছে, জীবন যেদিকে যাচ্ছে, চাহিদা যেখানে মুল মিডিয়াও সেদিকে এগুচ্ছে।

ভাইরাল করে ভিউ বাড়ীয়ে এক অস্থির প্রতিযোগিতায় সমাজ ধাবিত। ফেসবুক পেজে বাড়ীতে বসে অনেকে নানা ব্যবসা করছেন, সেটা অনেক ভাল মাধ্যম। তবে মোবাইল ডান্ডায় লাগিয়ে যে অপসাংবাদিকতা করছেন, তার জন্য শংকিত।

একটা উদাহরন দেই, রাত্রি নামের একজন সহশিল্পী সাকিব খানের বউ বলে ভাইরাল হলেন, বেশ কিছুদিন ঐ মহিলাকে নিয়ে ট্রল হল। এখন তিনি বলছেন, তিনি কখনও তা বলেন নি, মোবাইল টিভির ভাইয়েরা তাকে দিয়ে বলিয়েছেন। সাকিব খান তাকে সহযোগীতা করতেন। তার ছেলেটা বাহাদুরের ছেলে। তার হাতে কিছু টাকা দিয়ে ভিডিও ভাইরাল করে সেই মোবাইল অনলাইন এর ভাইয়েরা কয়েক লাখ টাকা বানিয়েছেন। এখন আবার শুনা যায় ভুয়া ডিউ ও ভুয়া ফলোয়ার করা যায়। ডান্ডা লাগানো মোবাইল টিভির অসাংবাদিকরা তাদের বড় সংখ্যার ভিউ দেখিয়ে নানা চটকাদার ইন্টার্ভিউ নিচ্ছেন। অনেক স্টার সেই ভুয়া ফলোয়ার দেখে কথা বলতে শুরু করেন। একটা ঘটনা যেখানেই ঘটুক টিভি চ্যানেল একসেস পায় না, মোবাইলের সাংবাদিকরা উপস্থিত। এদের সাংবাদিক বলা যায় কিনা আমার সন্দেহ। যদিও এর মধ্যে অনেকে ভাল কাজ করে থাকেন, জনজীবন এর দুর্ভোগ তুলে ধরেন। তবে কাজের চেয়ে অকাজ করেন বেশী। এই বৃহদ গোষ্ঠীর কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নাই। এরা অনেকের নুন্যতম যোগ্যতা নাই সাংবাদিকতার, তারপরও কোন এক মোহে বা সামান্য টাকার লোভে জড়িয়ে গেছেন।

যারা এই মাধ্যমে ভাল কনটেন্ট ক্রিয়েট করতে পারেন, তারা অনেক ভাল করছেন। ফুড টেষ্টিং, ট্রাভেল চ্যানেল,ইংরেজী শিক্ষা, আরবী শিক্ষা, অনলাইন টিচিং, স্টুডেন্ট কনসালটেন্সি সহ অনেক মাধ্যমে অনেকে জনজীবন এর উপকার হচ্ছে। অনেক এন্টারপ্রোনার মোটিভেশন করে হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য বদলাচ্ছেন। আমরা শংকিত অপসাংবাদিকতা নিয়ে। সংবাদের স্বচ্ছতা নিয়ে। তিলকে তাল না বানানো থেকে দুরে থাকার জন্য।

যারা শিক্ষিত যারা অনেক ভাল ধারনা রাখেন তারা এগিয়ে আসলে কোন অসুবিধা নাই। তারা তাদের কমনসেন্স ও মেধা খাটিয়ে সনাজকে ভাল কিছু দিতে পারবেন। কিন্তুু এ মাধ্যমে বেকার এক অশিক্ষিত বড় জনগোষ্ঠী জড়িত, যার কারনে আমাদের শংকা।

সাংবাদিকতা একটা মহত কাজ, সেটা প্রিন্ট, অনলাইন,মুলধারার টিভি বা অনলাইন মোবাইল টিভিই হউক সেখানে পেশাদারীত্ব থাকতে হবে। সমাজের কোনটা ভাল, কোনটা খারাপ বিচার করতে হবে। যেহেতু মোবাইল টিভি অনেক জনপ্রিয় হচ্ছে, লাখ লাখ লোক দেখছে, সেটা ভাইরাল হয়ে যায়। তাই আপনি কি ছাড়বেন সেটা বিবেকের বিষয়। সমাজের ভাল কাজে আসবে কিনা বিবেচনা করতে হবে। সাংবাদিকতায় মোজো হতে যাচ্ছে অন্যতম হাতিয়ার। অনলাইম মোবাইল টিভির সাংবাদিকতাকে এক অর্থে মোজো বলে। সিলেটের অনুজ প্রতিভাবান সাংবাদিক সাদিকুর রহমান সাকী মোজো সাংবাদিকতা কে উন্নত করার জন্য দুটো সফল ট্রেনিং দিয়েছেন সম্প্রতি সিলেট ও বিয়ানীবাজার এ। আমি সহ অনেকের কাছে পরামর্শ চাইলেন, আমি বললাম শিক্ষিত ছেলেদের ট্রেনিং দিতে পার। নুন্যতম গ্রাজুয়েট ও ভাল ট্রেইনার জরুরী। সাদিকুর রহমান সাকী অনেক ভাল কাজে জড়িত, এই মোজো হতে যাচ্ছে আাগামীর অন্যতম মিডিয়া। যেই বিষয় নিয়ে আজকের আলোকপাত।

আমাদের সমাজে অনাচে কানাচে অনেক সমস্যা, অনেক অনিয়ম, অনেক অনৈতিক কাজ, অনেক সরকারী অপব্যয় হয়ে থাকে। সে গুলো উঠে আসতে পারে এই মাধ্যমে। কারও পারিবারিক বা সামাজিক বা ব্যাক্তিগত বিষয় কে প্রাধান্য না দিলে এটা হতে পারে অনেক বড় মাধ্যম। অনেকেই অনেক সম্মানীত ব্যাক্তিদের নানা ভাবে হয়রানী করে তাদের জীবন অতিষ্ট করে তুলেন। বুঝে বা না বুঝে অনেক ডান্ডায় লাগানো মোবাইলের অপসাংবাদিকরা এই কাজ গুলো করেন। যার কারনে অনেকে আত্বহত্যা করতে বাধ্য হন। মানুষের মর্যাদাহানী হলে মানুষ বাচতে পারেন না। তাই এই মাধ্যম টাকে একটা নীতিমালায় আনতে হবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে তার দ্রুত বিচার করলে এটা অপব্যবহার কমবে।

সব জিনিসের ভাল মন্দ দুটো দিক থাকে।।এই মোবাইল সাংবাদিকতার ভাল দিক বলে শেষ করা যাবে না । সব অনিয়মের বিরুদ্ধে এ মাধ্যম কাজ করলে এটা সমাজের লাইটহাউস হবে। তবে এর মাধ্যমে যাতে কেউ হেনস্থা না হতে পারেন, বিব্রত বোধ না করেন তার নীতিমালা দরকার। আমরা দেখছি ভাইরাল ও ভিউ বাড়ানোর এক অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত সবাই। যা মোটেই কাম্য নয়। সমাজের পজিটিভ কাজে ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু মুল টিভি সারা দেশের আনাচে কানাচে সার্ভিস দিতে পারে না, তাই এই মাধ্যমে সব সম্ভব।

এই মাধ্যমটাকে সুন্দরভাগে ব্যবহার করতে পারলে সমাজ সরল রেখায় চলে আসবে।

আরও পড়ুনঃ সম্ভাবনার নতুন দ্বার: বিংহামটন

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বারহাম সালিহ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসী তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

মেডিকেইডের ওষুধের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন নীতি ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আরও এক বছর

তিন বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে আবার বাড়ল সুদের হার

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিনকার্ডে নতুন পাবলিক চার্জ নিয়ম

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসায় লাগাম, মার্কিন নজরদারিতে প্রতিষ্ঠানটি

বিজিবির অভিযানে মাদক-অস্ত্রসহ ৯১৩ কোটি টাকার পণ্য জব্দ, আটক ২৮১

১০

ডেট্রয়েট থেকে আটলান্টিক সিটি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তৃত উপস্থিতি

১১

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমাতে ডলারের বিকল্প খুঁজছে বিভিন্ন দেশ

১২

ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সঙ্গে বৈঠকে বসছে যুক্তরাষ্ট্র

১৩

গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন নিয়ম যুক্তরাষ্ট্রে, যাচাই হবে স্পনসরের ক্রেডিট তথ্য

১৪

সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

১৫

ডাকযোগে ভোটের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের উদ্যোগে বাধা

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ ভোটের অভিযোগে ৭ গ্রিন কার্ডধারী গ্রেপ্তার

১৭

ছয় বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার হার সর্বোচ্চ

১৮

প্রথমবার প্রকাশ্যে মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের স্বীকারোক্তি যুক্তরাষ্ট্রের

১৯

নবীনদের বরণ, গ্র্যাজুয়েটদের বিদায়: ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিজিএসএ’র যাত্রা শুরু

২০