যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী ও ভিসাধারীদের ঠিকানা পরিবর্তনের পর ১০ দিনের মধ্যে নতুন ঠিকানা ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) কাছে জানানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকানা হালনাগাদ না করলে গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন নোটিশ, নথি এবং আবেদনসংক্রান্ত চিঠিপত্র না পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ঠিকানা পরিবর্তন করা অধিকাংশ বিদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রেই এ নিয়ম প্রযোজ্য। তবে এ ক্যাটাগরি ও জি ক্যাটাগরির ভিসাধারী এবং ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির আওতাভুক্ত দর্শনার্থীরা এ নিয়মের বাইরে রয়েছেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ বা ইউএসপিএসকে নতুন ঠিকানা জানানো যথেষ্ট নয়। ইউএসপিএসের রেকর্ডে ঠিকানা পরিবর্তন করা হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইউএসসিআইএসের নথিতে হালনাগাদ হয় না। একইভাবে, ইউএসসিআইএস থেকে পাঠানো চিঠি নতুন ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তাও ইউএসপিএসের মাধ্যমে পাওয়া যায় না।
এ কারণে ইউএসসিআইএস অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের তথ্য জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থার অনলাইন অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নতুন ঠিকানা হালনাগাদ করা যায়। আগে ডাকযোগে কোনো আবেদন জমা দেওয়া হলেও অনলাইনে ঠিকানা পরিবর্তনের এই সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব। একাধিক আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে প্রতিটি আবেদনের রসিদ নম্বর ব্যবহার করে ঠিকানা হালনাগাদ করতে হবে। বিকল্প হিসেবে ডাকযোগে এআর-১১ ফরম জমা দিয়েও ঠিকানা পরিবর্তনের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ করা যায়।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে কেউ যদি অন্য কারও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার হলফনামা জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে ঠিকানা পরিবর্তনের ৩০ দিনের মধ্যে আই-৮৬৫ ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
ভিএডব্লিউএ, টি ও ইউ ভিসা-সংক্রান্ত আবেদন এবং নির্যাতনের কারণে আই-৭৫১ ফরমের ছাড় চাওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আলাদা ঠিকানা পরিবর্তন পদ্ধতি রয়েছে। দত্তক গ্রহণ-সংক্রান্ত কিছু আবেদনেও ঠিকানা পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবার কোনো আবেদন অনুমোদনের নোটিশে সেটি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারে পাঠানোর কথা উল্লেখ থাকলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে ওই দপ্তরকেও নতুন ঠিকানা জানাতে হতে পারে।
অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকুক বা না থাকুক, নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করে দ্রুত ঠিকানা হালনাগাদ করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে গুরুত্বপূর্ণ নোটিশ হারানো, আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রয়োজনীয় অভিবাসন নথি পেতে বিলম্বের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মন্তব্য করুন