মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন ৯৬ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। এ দাবির পক্ষে ক্যাটো ইনস্টিটিউটের একটি লেখচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ওই লেখচিত্রে ২০২৪ সালের তুলনায় বৈধ অভিবাসনে বড় ধরনের পতনের চিত্র তুলে ধরা হয়।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন মাসে সর্বোচ্চ ২২ হাজারের বেশি ছিল। এরপর থেকেই সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পতন আরও তীব্র হয় এবং চলতি বছরের শুরুতে সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে আসে। তবে লেখচিত্রে দেখা যায়, জো বাইডেনের মেয়াদের শেষ দিকেও অর্থাৎ ২০২৪ সালের শেষ ভাগে বৈধ অভিবাসনে নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছিল। ফলে পুরো পতন কেবল ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর শুরু হয়েছে এমন চিত্র এতে পাওয়া যায় না।
হোয়াইট হাউসের এই তথ্য প্রকাশের পর কয়েকজন রিপাবলিকান রাজনীতিক ও রক্ষণশীল ভাষ্যকার ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রশংসা করেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্র্যান্ডন গিল বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের জন্য বড় বিজয় হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দেন। টেক্সাসের ২৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের রিপাবলিকান প্রার্থী ব্র্যান্ডন হেরেরাও এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দেন।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন আরও চার শতাংশ কমানোর আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান। অন্য কয়েকজন রক্ষণশীল ভাষ্যকারও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রেও অভিবাসন কমানোর পক্ষে মত দেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখেও ট্রাম্পের সমর্থকেরা বিষয়টি তুলে ধরেছেন। জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ থাকলেও অভিবাসন নীতির কারণে দলটির পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। তাদের বক্তব্য, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে এই নীতিগুলো পরিবর্তন করতে পারেন।
অন্যদিকে, ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা বিভাগের পরিচালক ডেভিড জে. বিয়ার জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস যে লেখচিত্র প্রকাশ করেছে, সেটির পেছনের গবেষণাটি তাঁর করা। তিনি নিজের গবেষণা এভাবে ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রকাশনাতেও বিয়ার বলেছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে বৈধ অভিবাসন ২০২৪ সালের তুলনায় ৯৬ শতাংশ কমেছে।
বিয়ারের অভিযোগ, প্রশাসনের কিছু পদক্ষেপ আইন লঙ্ঘন করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের ক্ষতি করছে। তাঁর মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রকে কম নিরাপদ, কম স্বাধীন ও কম সমৃদ্ধ করছে। তবে এগুলো তাঁর রাজনৈতিক ও নীতিগত মূল্যায়ন; আলোচিত অভিবাসন হ্রাসের পদক্ষেপকে বেআইনি ঘোষণা করে আদালতের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গও এসেছে। ওই নীতি নিয়ে নিম্ন আদালতে আইনি বাধা তৈরি হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখে।
মন্তব্য করুন