যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিনকার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করতে নতুন নীতি ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার (২২ মে) প্রকাশিত এই নীতিমালার মাধ্যমে দেশটিতে বৈধ অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন নীতি অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেক অভিবাসী আর দেশটির ভেতর থেকেই গ্রিনকার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন না। পরিবর্তে তাদের নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে মার্কিন কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসার আবেদন করতে হবে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী, পর্যটক, অস্থায়ী ভিসাধারী এবং বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলেও পরে ভিসার মেয়াদ অতিক্রম করে অবস্থান করা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হতে পারেন। বিশেষ করে মার্কিন নাগরিক স্বামী-স্ত্রী বা নিয়োগদাতার স্পন্সরশিপের মাধ্যমে গ্রিনকার্ডের আবেদনকারীদের দেশ ছাড়তে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অনেক অভিবাসীর জন্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশের সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হওয়া। বর্তমানে আফ্রিকা ও এশিয়ার অধিকাংশসহ ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি বহাল রয়েছে। এছাড়া আরও ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা দীর্ঘ সময় অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন, তারা দেশ ছাড়লে পুনরায় প্রবেশে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারেন।
সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা মাইকেল ভালভার্দে বলেন, এই নীতি প্রতিবছর লাখো পরিবার ও নিয়োগদাতার পরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন ব্যাপকভাবে সীমিত করার নজিরবিহীন পদক্ষেপ। শুক্রবার প্রকাশিত স্মারকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ প্রক্রিয়াকে কঠোরভাবে সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোগ্য অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ড পেয়ে থাকেন।
স্মারকে ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসকে “ব্যতিক্রমধর্মী” এবং “প্রশাসনিক অনুগ্রহ” হিসেবে বিবেচনা করতে। একই সঙ্গে বিদেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকেই আবেদন করার সিদ্ধান্তকে আবেদনকারীর ক্ষেত্রে “নেতিবাচক বিষয়” হিসেবে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই নীতির কিছু ব্যতিক্রমও থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসাধারী, শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীরা এখনও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই গ্রিনকার্ডের আবেদন করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে অবস্থানরত কেউ গ্রিনকার্ড পেতে চাইলে তাকে নিজ দেশে ফিরে আবেদন করতে হবে, যদি না ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি থাকে। তিনি দাবি করেন, এই নীতি অভিবাসন ব্যবস্থাকে আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।
সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা ডগ রান্ড বলেন, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের মাধ্যমে গ্রিনকার্ড পান। নতুন পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে শিক্ষার্থী বা অস্থায়ী ভিসায় থাকা অভিবাসীদের সঙ্গে বিবাহিত মার্কিন নাগরিকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, নতুন নীতির কারণে বহু পরিবার দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে পারে এবং অনেকে বিদেশে আটকে যাওয়ার ঝুঁকিতেও থাকবেন।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
মন্তব্য করুন