বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার কাঠালতলীর শিমুলিয়া গ্রামে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ১৯৮৯ সালে ফ্যামিলি ভিসায় আমেরিকায় এসে জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে পৌঁছেছেন সাফল্যের উচ্চতায়। সাউথইস্ট ডেট্রয়েটের আরবান ফার্মিং বিপ্লবে তিনি একজন অগ্রগামী মুখ। তার জীবন, সংগ্রাম ও সফলতা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলা সংবাদ-এর সাথে।
আমেরিকায় আগমন ও প্রাথমিক জীবন:
“প্রথমে নিউইয়র্কে আসি। কিছুদিন চাকরি করে চলে যাই ফ্লোরিডায়, যেখানে ছিলাম প্রায় সাড়ে ছয় বছর। আবহাওয়া ভালো ছিল, ঠাণ্ডা কম, তাই সেখানে যাই। প্রথমদিকে গ্যাস স্টেশনে কাজ, পরে হোটেল ম্যানেজার হিসেবে অনেক বছর কাজ করি। পরে এলার্জিজনিত শারীরিক সমস্যার কারণে নিউইয়র্কে ফিরে আসি। ১৯৯৮ সালে মিশিগানে আসি এবং এখন পর্যন্ত এখানেই আছি।
ফার্মিংয়ের শুরু:
“আমার ইচ্ছে ছিল ফার্ম করার। ২০০৮ সালে ব্যাটল ক্রিক-এ একটি ফার্ম কিনি, সেখান থেকেই আমার যাত্রা। চার বছর চালিয়েছি বিশাল ফার্ম। ফার্মিং শুধু চাষ নয়, এটি আমাদের জীবনের অংশ। আমেরিকান ফার্মাররা বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ করে – এটাই আমাকে ফার্মিংয়ে টেনে আনে।”
ফার্মিংয়ে মুসলিম সংস্কৃতি ও লাভজনকতা:
“আমার ফার্মে গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন পশু-পাখি ছিল। ছাগল পালন মুসলমানদের জন্য সুন্নত, তাই এই দিকে আমার আগ্রহ বেশি। কর্ন চাষও করতাম। ছাগলকে অনেকে ‘গোল্ড’ বলছেন, কারণ লাভজনক। ৫০টি ছাগল থেকে বছরে ১০০টি বাচ্চা পাওয়া যায়, প্রতিটির দাম ৫০–২০০ ডলার। বড় ছাগল ৩০০–৪০০ ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়।”
নতুনদের জন্য ফার্মিং পরামর্শ ও সরকারি সুবিধা:
“যদি বাঙালিরা ফার্মিং করে, তাহলে লস কম, লাভ বেশি। সরকার সহজে লোন দেয়, পশু-পাখির খাদ্যে ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা দেয়। ক্ষতির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকিও দেয়।”
আরবান ফার্মিং শুরু:
“২০১২ সালে লাভ ব্যাংকের সহায়তায় কয়েকটি বাড়ি ও জমি কিনে ডেট্রয়েট শহরে আরবান ফার্মিং শুরু করি। পরিত্যক্ত এলাকা ছিল, মাত্র ১০ ডলারে বাড়ি কিনেছি। শিম, লাউ, লাল শাকসহ নানা জাতের ফসল চাষ করি। সিটির পক্ষ থেকে অনেক সহযোগিতা পাওয়া যায়। ছোট পরিসরে শুরু করলেও প্রতিদিন ১০০ ডলার বিক্রি সম্ভব। ২০১২ সালে শুধু সবজি বিক্রি করেই প্রায় ৩০ হাজার ডলার ইনকাম করেছি।”
কমিউনিটিকে রক্ষা ও উন্নয়নে ভূমিকা:
“শুরুতে 13188 Medougall এলাকা অনেক ভয়ানক ছিল। আমি এবং চারজন মিলে টহল দিতাম। কেউ সহযোগিতা করেনি, বরং অনেকেই বাধা দিয়েছে। পুলিশের সহায়তায় আমরা এলাকা সেফ করেছি। এখন যে কেউ এখানে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে।”
চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা:
“অনেকে বলেছে, আমি একা ফার্মিং করছি না। হ্যাঁ, এখন অনেকেই করছে। তবে আগে পরিস্থিতি ছিল একেবারে ভিন্ন। অনেক চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে এসেছি – ছিনতাই, হ্যারেজমেন্ট, আগুন লাগানো পর্যন্ত হয়েছে। কিন্তু হাল ছাড়িনি।”
হালাল বার ও জিরো অ্যালকোহল প্রসঙ্গ:
“জিরো অ্যালকোহল নামেই বিভ্রান্তি। এতে ০.৮% পর্যন্ত অ্যালকোহল থাকে, যা মুসলমানদের জন্য নিরাপদ নয়। অনেক পণ্যে হারাম উপাদান থাকে, তাই আমি এর বিপক্ষে। হালাল বার – এ ধারণা মুসলমানদের জন্য উপযুক্ত নয়।”
শেষ কথা:
“ফার্মিং শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, বরং কমিউনিটির উন্নয়ন ও স্বাধীন জীবনের প্রতীক। আমি চাই, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃতির কাছাকাছি থাকুক।”

মন্তব্য করুন