বাংলাদেশি আমেরিকান শিল্পী ফাতেমা হকের শিল্পকর্মের (হ্যান্ড এমব্রয়ডারি) প্রদর্শনীর উদ্বোধন আজ (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মিশিগানের খ্যাতনামা অ্যান আর্বার হলের শাপিরো লাইব্রেরি গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়। লেখক, শিক্ষাবিদ ও ফাইবার শিল্পী ফাতেমা হক তাঁর সূচিকর্মে তুলে ধরেছেন অভিবাসী ইতিহাস। সেই ইতিহাসের প্রদর্শনী ১ ডিসেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত। এ প্রদর্শনীতে বিভিন্ন স্থিরচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি আমেরিকানদের বিভিন্ন প্রজন্মের যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ইতিহাসকে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্থিরচিত্রগুলো মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জমা দেওয়া ছবি থেকে নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশি আমেরিকান শিল্পী ফাতেমা হক মিশিগানে অভিবাসনের ইতিহাসকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য একটি প্রজেক্ট চালু করেন। তার মাধ্যমে তিনি মিশিগানবাসীদের মৌখিক সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং এই কমিউনিটির মর্যাদা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যথাযথভাবে তা নথিভুক্ত করেছেন।
এ প্রসঙ্গে শিল্পী ফাতেমা হক বলেন, “এই প্রজেক্টের সময় আমি প্রথম দিকে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জীবন যাপন কেমন ছিল সে সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। যেমন সাক্ষাৎকারের গ্রহনের সময় ১৯৭২ সালে মিশিগানে এসেছিলেন এমন একজনের সাথে আমার কথা হয়। স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান যে তারা স্প্যাগেটি সস দিয়ে তরকারি রান্না করতেন কারণ এই অঞ্চলে দক্ষিণ এশীয় মশলা পাওয়া যেত না। আজ হ্যামট্র্যামিক শহরে সবরকম দেশীয় পণ্য পাওয়া যায়। এটি অনেকটা মিনি-সিলেটের মতো”।
প্রদর্শনীতে ১১টি স্থির চিত্র থাকছে যার মধ্যে রয়েছে: একটি শিশুর প্রথম দিন হ্যামট্রামিকে তাদের বাড়িতে অবস্থান করছেন, ডেট্রয়েটে একজন পিতা তার শিশু কন্যাকে ধরে রেখেছেন এবং এক দম্পতি মিশিগান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের একটি তাঁবুতে পিকনিক করছেন।
শিল্পী ফাতেমা হক মাত্র নয় বছর বয়সে ডেট্রয়েটে চলে আসেন। তিনি ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এছাড়া তিনি মিশিগান ইউনিভার্সিটি থেকে বি.এ এবং এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি অ্যান আর্বারে থাকেন। তিনি একজন স্ব-শিক্ষিত ফাইবার শিল্পী। তার শিল্প বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরম্পরাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রদর্শনীর প্রতিটি সুনিপুণ প্রতিকৃতির জন্য নিজ হাতে তিনি ৩০-১০০ ঘন্টা কাজ করেছেন। সাধারণত ফেব্রিকের উপর তিনি গাছপালা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন।
১৯৭০ এর দশকে অল্প সংখ্যক বাংলাদেশি পড়াশোনা এবং কাজের জন্য মিশিগানে এসেছিলেন। সেই থেকে মিশিগানে বাংলাদেশি অভিবাসনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই ওয়েন স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়েছেন বা ডেট্রয়েট-ভিত্তিক অটো কারখানায় কাজ করেছেন।
মিশিগানে ১৯৯০-এর দশকে ১৫,০০০-এর উপরে বাংলাদেশি অভিবাসনের পর থেকে সংখ্যাটি দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে।
প্রদর্শনীর জন্য নিজের পরিবারের একটি ছবি জমা দিয়ে মিশিগানে বসবাসরত ফাতেমাতুজ জোহরা চমক বলেন, “আমার বাবার কাছে জানতে পারি কুইন্স বা নিউ ইয়র্কের থেকে মিশিগানে জিনিসের দাম তুলনামূলক ভাবে সাশ্রয়ী ছিল। তাই তিনি আমাদের এখানে স্থানান্তরিত করেছেন।”
ফাতেমা হকের এমব্রয়ডারি করা শিল্পকর্ম দেখতে যে কেউ ক্লার্ক কমন্সের শাপিরো লাইব্রেরি গ্যালারিতে উঁকি দিতে পারেন।
মিশিগান মিউজিয়াম অব আর্ট, ইউ-এম আর্টস ইনিশিয়েটিভ এবং কলেজ অব লিটারেচার “আর্টস অ্যান্ড রেজিস্ট্যান্স” নামক প্রদর্শনীটির পৃষ্টপোষকতায় রয়েছে।
মন্তব্য করুন