কোভিড-১৯ মহামারির সময় দেরিতে ট্যাক্স ফাইল করা বা সময়মতো কর জমা দিতে না পারায় জরিমানা ও সুদ পরিশোধ করা লাখো আমেরিকান এখন রিফান্ড পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতের সাম্প্রতিক রায়ের পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।
“Kwong v. United States” মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ফেডারেল ক্লেইমস রায় দেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় ট্যাক্স ফাইলিংয়ের সময়সীমা বাড়ানোর যে আইনি বিধান রয়েছে, তা কোভিড-১৯ মহামারির সময়ও কার্যকর হওয়া উচিত ছিল। আদালতের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড জরুরি অবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
এই রায়ের ফলে ওই সময়ের মধ্যে দেরিতে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বা সময়মতো কর পরিশোধ করতে না পারায় যাদের কাছ থেকে জরিমানা ও সুদ আদায় করা হয়েছিল, তারা সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক আমেরিকান হয়তো না জেনেই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা পরিশোধ করেছেন। মহামারির সময় চাকরি হারানো, অসুস্থতা, ব্যবসায় ক্ষতি কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে বহু মানুষ সময়মতো ট্যাক্স ফাইল করতে পারেননি। আদালতের এই রায় তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। মামলাটি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইআরএস এখন পর্যন্ত সবার জন্য স্বয়ংক্রিয় রিফান্ড ঘোষণা করেনি। ফলে কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্ভাব্য রিফান্ড পেতে আগ্রহীদের নিজেদের ট্যাক্স রেকর্ড পর্যালোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজন হলে সংশোধিত রিটার্ন বা রিফান্ড দাবি জমা দিতে হবে।
এছাড়া রিফান্ড দাবির সময়সীমাও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই যারা কোভিড সময়ের ট্যাক্স জরিমানা বা সুদ পরিশোধ করেছিলেন, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন