দীর্ঘ ১৩ বছর বন্ধ থাকার পর সাউথ ক্যারোলাইনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী ফ্রেডি ওয়েন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। ১৯৯৭ সালে গ্রিনভিলের স্পিডওয়ে নামের একটি স্টোরে ডাকাতির সময় ক্লার্ক আইরিন গ্রেভসকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত হোন ফ্রেডি ওয়েন্স।
একাধিকবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ফ্রেডি ওয়েন্সের আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগের সপ্তাহেও ওয়েন্স আদালতের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং আইরিন ক্লার্ককে গুলি করেননি বলে জানান। মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে অমানবিক দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্টিভেন গোল্ডেন সাক্ষ্য দেয়ার সময় নিজে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানান। এছাড়া মামলার রায়ের আগে আইনজীবীদের কথামতো সাক্ষ্য দিয়েছিলেন বলেও জানান গোল্ডেন। তার মিথ্যা সাক্ষ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দেশের জন্য নজিরবিহীন ঘটনা বলে মন্তব্য করেন ওয়েন্সের আইনজীবী জেরাল্ড কিং।
ওয়েন্সের আইনজীবী আরো জানান, মিথ্যা সাক্ষ্যে কারো জীবন কেড়ে নেয়ার নজির সৃষ্টি করা হলো। ওয়েন্স নির্দোষ থাকলেও সাউথ ক্যারোলাইনা সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন সময়ে দেয়া সাক্ষ্যকে অসঙ্গতিপূর্ণ উল্লেখ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশনা দেয় বলেও জানান তিনি। সাউথ ক্যারোলাইনা করেকশনস ডিপার্টমেন্ট জানায়, ওয়েন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জেকশনের সরবরাহ না থাকায় প্রস্তুতি নিতে দেরি হয়। শুক্রবার রাতে ওয়েন্সকে জীবনঘাতী ইঞ্জেকশন দেয়া হয় এবং এর ২০ মিনিট পর তার মৃত্যু কার্যকরের কথা জানান কর্মকর্তারা।
দীর্ঘ ১৩ বছর পর সাউথ ক্যারোলাইনায় মৃতুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন তিন সাংবাদিক। এপির প্রতিবেদক জেফরি কলিন্স জানান, ইঞ্জেকশন দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে হাস্যোজ্জল ওয়েন্স মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক ডেইভিড ফেরার জানান, ১১ জন সাক্ষীর সামনে তিন কর্মকর্তা ফ্রেডি ওয়েন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেন। ফক্স নিউজের প্রতিবেদক জাস্টিন ডুয়ার্টি জানান, মৃত্যুর আগ মূহুর্তে বাই বলে আইনজীবীর কাছ থেকে বিদায় চেয়ে নেন ফ্রেডি ওয়েন্স।
এদিকে, ফ্রেডি ওয়েন্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সন্তোষ জানান নিহত আইরিন গ্রেভসের মেয়ে গ্রেভস লি। তিনি বলেন, মাকে আর ফিরে পাবেন না তবে আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে তার পূর্ণ সমর্থন আছে।
মন্তব্য করুন