২৬ জানুয়ারী ২০২৩, ৫:৩৮ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

হাতে লিখে দিনমজুরের পত্রিকা প্রকাশ

হাতে-লিখে-দিনমজুরের-পত্রিকা-প্রকাশ
ছবিঃ সংগৃহীত

হাসান পারভেজ পেশায় একজন দিনমজুর।তবে তার একটি বিশেষ গুণ রয়েছে তিনি হলেন একটি পত্রিকার সম্পাদক, লেখক, প্রকাশক এবং হকার।পত্রিকাটির প্রতিবেদকও রয়েছে তারা হাসান পারভেজের সাথে একই ইটভাটায় কাজ করেন।

 

হাসান পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় তার পত্রিকা আন্ধারমানিক নিজের হাতে লিখে বের করে। এই এলাকা এবং আশেপাশের মানুষের গল্প উঠে আসে তার লেখায়। তার এই কাজের মধ্যে দিয়ে অসংখ্য পাঠক পেয়েছেন তিনি ।তার লেখাগুলো সত্যিকারের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

 

একবার স্থানীয় এক মেয়ের কাহিনি তাকে এতটাই নাড়া দেয় যে তিনি মেয়েটিকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। জসীমউদ্দিনের আসমানী কবিতার অনুকরণে তিনি ‘রুবিনাকে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও’- নামে একটি কবিতা লেখেন। সেখানে উঠে আসে মেয়েটির দুঃখ ও সংগ্রামের গল্প।

 

ভিটে-বাড়িহীন ছোট্ট রুবিনা তার বৃদ্ধ নানী ও মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের সঙ্গে থাকে। মাকে বেঁধে রাখে শিকলে। পরিবারটিকে সাহায্য করা মতো কেউ ছিল না। গ্রামে ঘুরে ঘুরে রুবিনাকে তাই ভিক্ষা করতে হতো। যেদিন ভিক্ষা করতে বেরুতে হতো না, রুবিনা স্কুলে যেত।

হাসান নিজে দরিদ্র মানুষ হলেও রুবিনার কষ্ট তার মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে। সেখান থেকেই তিনি রুবিনাকে নিয়ে লিখেন।

হাসান বলেন, রুবিনার এই কষ্ট দেখে খুব খারাপ লেগেছিল । আমি যখন ফেসবুকে কবিতাটি পোস্ট করি, তখন তা ভাইরাল হয়। কবিতাটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরবর্তীতে রুবিনা সরকারের কাছ থেকে এক খণ্ড জমি ও একটি বাড়ি পায়।রুবিনা ছাড়াও আন্ধারমানিক পত্রিকায় হাসান যাদের গল্প লিখেছেন, তাদের অনেকেই উপকৃত হয়েছে।

 

২০১৯ সালের পয়লা মে থেকে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।৩০০ কপি পত্রিকা ছাপান হাসান। এখন পর্যন্ত আন্ধারমানিকের ১১টি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।পত্রিকাটি অন্যসব পত্রিকার মতো নয়। এই পত্রিকায় মারামারি, হানাহানি, খুন ও ধর্ষণের খবর নেই। এর প্রায় সবই বিভিন্ন মানুষকে কেন্দ্র করে লেখা। বিশেষ করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এমন লেখাই বেশি।

তিনি গ্রামের সাধারণ মানুষের সফলতার গল্প তুলে ধরেন যেগুলো অন্যদের অনুপ্রাণিত করেন। আবার কখনো প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য তুলে ধরেন তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা।

তিনি বলেন, প্রতি দুই মাস পরপর প্রকাশিত হয় আন্ধারমানিক। দিনমজুরি করে সেই কাজের ফাঁকে পত্রিকার কাজ করতে হয় তাকে। তাই নিয়মিত পত্রিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয় না।

জীবিকা নির্বাহ করতে হাসান কখনো ইটভাটায় কাজ করেন, আবার কখনও যান মাছ ধরতে। কিন্তু কোনোকিছুই তার পত্রিকা প্রকাশের ইচ্ছাশক্তিকে দমাতে পারেনি।

 

ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির ঝোঁক ছিল তার। কিন্তু দারিদ্র্যের বেড়াজালে আটকে পড়ায় লেখক হওয়ার বাসনাকে বিসর্জন দিতে হয়েছিল।১৯৯৬ সালে এসএসসি পাস করার কথা ছিল হাসানের। কিন্তু টাকার অভাবে পরীক্ষায় বসতে পারেনি তিনি।

 

প্রায় ২০ বছর পর ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বসেন তিনি। ২০১৭ সালে পাশ করেন এইচএসসি। বর্তমানে কলাপাড়া সরকারি কলেজে পড়শোনা করছেন তিনি।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

প্রচণ্ড গরমে চোখের সুরক্ষায় যা জানা প্রয়োজন

ইনস্টাগ্রামের এডিটসে নতুন ফিচার, মিলবে দ্বিভাষিক ক্যাপশন ও এআই সহকারী

ইনস্টাগ্রামের এডিটসে নতুন ফিচার, মিলবে দ্বিভাষিক ক্যাপশন ও এআই সহকারী

আনচেলত্তির নেইমার-সিদ্ধান্ত ভুল, দাবি ব্রাজিলের সাবেক তারকার

২০ বছর পর গাজার শাসনভার ছাড়ার ঘোষণা হামাসের

বাংলা সাহিত্য পরিষদ ইউএসএর সাহিত্য আসর অনুষ্ঠিত

খামেনির শেষ বিদায়ে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি, কৃতজ্ঞতা জানাল ইরান

বাকার উদ্যোগে আলাপন ও নৈশভোজ; চার বিশিষ্ট সমাজকর্মীকে সংবর্ধনা

মিশিগানে বড়লেখা ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের বনভোজন সম্পন্ন

স্টুডেন্ট লোনে নতুন অধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের জন্য কী বদলাচ্ছে

১০

ট্রাম্প প্রশাসনের কড়াকড়ি: অস্থায়ী সুরক্ষাপ্রাপ্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ

১১

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে শুরু ‘দ্য গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’

১২

সন্ধা নামে : ছন্দা বিনতে সুলতান

১৩

চিঠি লিখি, ডাকবাক্সে হয় না ঢালা : আনোয়ার ইকবাল কচি

১৪

বসুধা : অনামিকা নেওয়াজ

১৫

চাবুকের হিস হিস বনাম ফেড়ারেল আইন : ইশতিয়াক রুপু

১৬

উপনিবেশ থেকে পরাশক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও রাষ্ট্রগঠনের ইতিহাস

১৭

দারুণ মজা: রাজশাহীর কালাই রুটি খেয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রশংসা

১৮

ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে রোবট

১৯

ফ্লোরিডা কিজ: প্রবাল দ্বীপ ও ৪২ সেতুর রহস্য

২০