কোভিড-১৯ তথা করোনাভাইরাস নামক সংক্রামক ব্যাধি যখন পৃথিবীজুড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করে তোলে ঠিক সেই সময়ে গুটিকয়েক লোকজন নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের কল্যাণে সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসেবে লড়ে গেছেন, তেমনি একজন সিলেটের শাহ আলম শাওন।
পারিবারিক পরিমণ্ডলে রয়েছে রাজনৈতিক ছোঁয়া, তাই নিজেকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন ওতপ্রোতভাবে। জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে। শাওন দেশের কল্যাণে, মানুষের সেবায় নিজেকে সর্বদা জড়িয়ে রাখতে চান।
করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় যখন আক্রান্ত চারপাশ, জীবন রক্ষার্থে মানুষজন নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন ঘরে, ঠিক সেই সময় অসহায় মানুষগুলোর জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণের কাজ শুরু করেন শাহ আলম শাওন।সেই সময়ের একটি ঘটনায় শাওন খাদ্যসামগ্রীর বদলে শুরু করেন অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ।
সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম শাওন শহরতলির ধূপাগুল এলাকার ষাটোর্ধ্ব সায়রা বেগম নামক ব্যক্তিকে খাদ্যসহায়তা দিতে যান। ওই নারীর সংসারে একমাত্র মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিল না।
ষাটোর্ধ্ব সায়রা বেগম শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। শাহ আলম শাওন অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন পরিমাপ করার পর বুঝতে পারেন তাঁর শরীরে অক্সিজেন কমে গেছে। পরে তাঁকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনে দেন। কিন্তু ওই নারী তিন দিন পর মারা যান।
ওই মৃত্যুতে শাহ আলম শাওনেরও চিন্তায় আসে পরিবর্তন। তিনি সিদ্ধান্ত নেন এমন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে খাদ্যসামগ্রীর পরিবর্তে মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন অক্সিজেন সিলিন্ডার।
হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ওই সময় অক্সিজেন সিলিন্ডারের দাম বেড়ে যায়। অনেক দরিদ্র পরিবারের রোগীরা টাকার অভাবে অক্সিজেন সিলিন্ডার কিনতে পারছিলেন না। সেই প্রেক্ষাপটে শাওন তাঁর প্রবাসী বড় ভাই এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বোনের আর্থিক সহায়তায় বিনামূল্যে অক্সিজেন সার্ভিস সেবা চালু করেন।
সেই সেবার পথে চলতে চলতে সাথে পান কিছু সেচ্ছাসেবক। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দিন-রাতের সময়ের হিসাব ভুলে শুরু হয় ২৪ ঘন্টার অক্সিজেন সেবা। তিনটি হটলাইন নাম্বার সচল রেখে এই সেবা এখনও চলমান রয়েছে।
সেবা নেওয়ার শর্ত একটাই রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র প্রদর্শন করতে হবে।
বাইশের বন্যায় পুরো সিলেট বিভাগ ছিলো আক্রান্ত। আবারও ত্রান সামগ্রী নিয়ে আক্রান্ত মানুষের দোরগোড়ায় হাজির হন শাওন। কেবল সেখানেই থেমে থাকেননি বরং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনে রাখেন ব্যাপক ভূমিকা।
সংকটে দূর্যোগে মানুষের পাশে থেকে সারাজীবন পাড়ি দিতে চান শাওন। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেমন সরব তেমনি সামাজিক কর্মকাণ্ডে প্রশান্তি খুঁজে পান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য শাহ আলম শাওন।
অতিবৃষ্টিতে বন্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাতে কাস্তে হাতে ধান কেটে দিচ্ছেন কিংবা মাহে রমজানে অসহায় ছিন্নমূল গরীবের হাতে তুলে দিচ্ছেন ইফতার সামগ্রী এমন সব সুকর্মে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে সমসাময়িক তরুণ প্রাণে তৈরি করছেন ইতিবাচক ভাবনা।
আলোকিত সমাজ গঠনে শাওনের কর্মে সিলেটের অসংখ্য তরুণ প্রাণে সঞ্চার হচ্ছে আলো, প্রতিনিয়ত উৎসাহ-অনুপ্রেরণা যুগিয়ে আলোর মিছিলে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন শাওন।
বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী দারুণ স্পর্শ করে শাহ আলম শাওনকে। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য ছিল শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা।
‘সোনার বাংলা’ গড়ার প্রত্যয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার দুঃখী মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার জন্য বলেছিলেন, ‘সমাজের উচ্চ ধনী শ্রেণির যে অধিকার; মজদুর, কৃষকের সেই অধিকার থাকবে।’
শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সদা প্রন্তুত সময়ের সাহসী সন্তান শাহ আলম শাওন।
মন্তব্য করুন