‘আমরা সবসময় মনে করি ভারত বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু। বর্তমানে সম্পর্কের স্বর্ণালী সময় অতিক্রম করছে বাংলাদেশ-ভারত। অদূর ভবিষ্যতে ভিসামুক্ত ভারত-বাংলাদেশ চাই।’ বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেটে ৪ দিনব্যাপী ১১তম বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ সংলাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এভাবেই অভিমত ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায় দাবি করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের সংলাপ থেকে আমরা প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারবো।
ড. মোমেন বলেন, প্রতি বছর আমাদের দেশ থেকে চিকিৎসাসহ নানা কারণে ভারত গমন বেড়েছে। তাই ভিসা প্রক্রিয়ায় সহজ করার জন্য তিনি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ সংলাপের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে ৬ মন্ত্রী, ২০ সংসদ সদস্যসহ জাতীয় নেতারা অংশ নিয়েছেন। সংলাপ উপলক্ষ্যে ভারত থেকে ১৪০ জনের প্রতিনিধি দল সিলেটে এসেছে।
ঢাকা থেকে প্রতিদিন পাঁচ হাজার ভারতীয় ভিসা ইস্যু হয় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমেরিকার ভিসার জন্য অ্যাপয়েনমেন্ট নিতেই বছর লেগে যায়। সেক্ষেত্রে ভারত আমাদের অনেক সুবিধা দিচ্ছে। তারা চিন্তা করছে এই সুবিধা কীভাবে বাড়ানো যায়। আমি বলেছি, অদূর ভবিষ্যতে ভিসামুক্ত ভারত-বাংলাদেশ চাই।
ড. মোমেন বলেন, আমাদের দেশের উন্নয়নের সঙ্গে ভারতবর্ষেও ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আবার ভারতবর্ষের সঙ্গে আমাদের দেশেও অনেক উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের দেশের বহু লোক ভারতে ব্যবসার জন্য আসা-যাওয়া করেন। ভারতেরও প্রায় পাঁচ লাখ লোক আমাদের দেশে কাজ করছেন। তারা বিভিন্নভাবে আমাদের উন্নয়নে অংশ নিচ্ছেন, তাদের দেশেও টাকা পাঠাচ্ছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি একবার গুয়াহাটিতে গিয়েছিলাম। সেখানকার চিফ মিনিস্টার আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন। আমি জানতে চাইলাম কেন এত ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। তিনি বললেন আমাদের মেঘালয় ও আসাম এই প্রদেশগুলো অত্যন্ত রিচ ও পটেনশিয়াল। কিন্তু কেউ এখানে বিনিয়োগ করত না, ভয় করত। সন্ত্রাসের আতঙ্ক ছিল এখানে। শেখ হাসিনার সরকার আসার পর তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করায় এখানে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস বেড়েছে, আস্থা বেড়েছে। এখন আসামে প্রচুর বিনিয়োগ হচ্ছে।
মন্তব্য করুন