বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪:০৭ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় নির্বাচন হোক অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের জন্য কেবল আরেকটি ভোটের দিন নয়, বরং রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতার এক বড় পরীক্ষা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একইসঙ্গে ঘোষিত গণভোট এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে দীর্ঘ অস্থিরতা, ভোটাধিকার নিয়ে বিতর্ক, এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্বিবেচনার আকাঙ্ক্ষা এক বিন্দুতে এসে মিলেছে।

 

 

এই প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সেনা সদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন, তার কেন্দ্রে আছে একটি স্পষ্ট কথা- অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে যেকোনো মূল্যে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। মাঠপর্যায়ে প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনসম্মত হতে হবে এবং সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনআস্থা ক্ষুণ্ন না করে-এই নির্দেশনা আসলে রাষ্ট্রের মনোভাবকেই প্রতিফলিত করে।

 

 

এবারের নির্বাচনের বিশেষ দিক হলো- বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এমনও বহু নাগরিক আছেন, যারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি। এই বাস্তবতায় ভোট শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং নাগরিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের একটি প্রতীকী ও বাস্তব পদক্ষেপ। তাই ভোটকেন্দ্র যেন ভয়মুক্ত হয়, ভোটার যেন নিরাপদ বোধ করেন, এবং নির্বাচনী পরিবেশ যেন সংঘাত নয়-উৎসবের আবহ তৈরি করে-এটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রযন্ত্রের মৌলিক দায়িত্ব।

 

 

সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচন কমিশন ও বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার নির্দেশ এ কথাই মনে করিয়ে দেয় যে, নির্বাচন কেবল একটি সংস্থার কাজ নয়; এটি সমন্বিত রাষ্ট্রীয় প্রয়াস। তবে একইসঙ্গে মনে রাখতে হবে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে যেন নাগরিক স্বাধীনতার অনুভূতি সংকুচিত না হয়। পেশাদার ও নিরপেক্ষ ভূমিকার যে প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্ত করেছেন, সেটিই হবে আস্থার মূল চাবিকাঠি।

 

 

গণভোটের প্রসঙ্গ যুক্ত হওয়ায় এবারের প্রক্রিয়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ। জনগণ একদিকে রাষ্ট্রব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে মত দেবে, অন্যদিকে সেই মত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। অর্থাৎ, এটি শুধু সরকার গঠনের নির্বাচন নয় বরং রাষ্ট্রচিন্তার দিকনির্দেশনা নির্ধারণেরও মুহূর্ত।

 

 

অতএব, এই নির্বাচন প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- সবাইকে একটি পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়েছে। ফলাফল যাই হোক, যদি ভোটাররা বিশ্বাস করতে পারেন যে তাঁদের ভোট সত্যিই তাঁদের-তাহলেই এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে। প্রত্যাশা করি গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় সবার নিকট এই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে ।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানকে ‘সাদা পতাকা’ তুলে আত্মসমর্পণের আহ্বান ট্রাম্পের

নিউইয়র্কে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রবাসীদের বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

বড়লেখায় ৪০ কৃষকের মধ্যে ৭৫ লাখ টাকা কৃষিঋণ বিতরণ

ওমানকে বোমা হামলার হুমকি দিয়ে নতুন বিতর্কে ট্রাম্প

মিশিগানে তিন দিন জঙ্গলে নিখোঁজ, জীবিত উদ্ধার মা-ছেলেসহ তিনজন

সাইবার ঝুঁকি এড়াতে আইফোন ব্যবহারকারীদের নতুন সতর্কবার্তা

ট্রাম্পের জামাতা কুশনারের সঙ্গে হামাস নেতাদের বৈঠকের খবর উঠছে নানা প্রশ্ন

বাংলাদেশিসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র

মিশিগানে দুই দিনব্যাপী বাংলা বইমেলা আগামী ২২ ও ২৩ আগস্ট

মুসলিম যাত্রীদের জন্য বিমানবন্দরে অজুর সুবিধা চালু যুক্তরাষ্ট্রে

১০

বিদেশি অপরাধী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সাইবার হামলার ক্ষমতা পেল মার্কিন কোম্পানি

১১

ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড বাণিজ্য, নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিযানে ১১ গ্রেপ্তার

১২

তথ্য বিক্রিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নতুন আইনি লড়াই

১৩

হোয়াইট হাউসে বড় রদবদল, প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়ছেন লেভিট

১৪

নিউইয়র্কে ২০২৭ থেকে মেডিকেইডে নতুন শর্ত, ঝুঁকিতে যেসব সুবিধাভোগী

১৫

মিনেসোটার পঞ্চম আসনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে বড় জয় ইলহান ওমরের

১৬

সব বিষয়ে এ+; রোদেলার চোখে এখন সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন

১৭

মিশিগানে বাংলা সংবাদ কার্যালয়ে সৈয়দ উতবার সৌজন্য সাক্ষাৎ

১৮

আবদুল এল-সায়েদ নির্বাচিত হলে নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হবে: ন্যান্সি মেস

১৯

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের নেতৃত্বে প্রথম সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড

২০