ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা শুধু বাংলাদেশকে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিদেরও গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে| আমেরিকার মিশিগানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শঙ্কার সঙ্গে ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন| কারণ, এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; বরং সমাজের ভেতরে জমে ওঠা ভয়াবহ ˆনতিক অবক্ষয়ের নির্মম বহিঃপ্রকাশ|
গত এক মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় চার থেকে দশ বছর বয়সী একাধিক শিশু ধর্ষণ, হত্যাচেষ্টা কিংবা হত্যার শিকার হয়েছে| ঠাকুরগাঁও, মুন্সিগঞ্জ, পাবনা, সিলেট কিংবা চট্টগ্রাম- কোথাও যেন শিশুরা নিরাপদ নয়| সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা পরিবারের পরিচিত মানুষ, প্রতিবেশী কিংবা স্থানীয় তরুণ| এটি সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা এক ভয়াবহ অসুস্থতার ইঙ্গিত দেয়|
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রয়েছে, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডও নির্ধারণ করা হয়েছে| কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- কেবল কঠোর শাস্তি কি অপরাধ কমাতে পেরেছে? বাস্তবতা বলছে, পারেনি| কারণ, আইন শুধু অপরাধের বিচার করতে পারে; অপরাধপ্রবণ মানসিকতা গড়ে ওঠা ঠেকাতে পারে না| এজন্য প্রয়োজন পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংগঠন- সবার সম্মিলিত উদ্যোগ| শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বিদ্যালয়ভিত্তিক সচেতনতা শিক্ষা, বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং ব্যবস্থা, যৌন অপরাধীদের ডাটাবেজ শক্তিশালীকরণ এবং দ্রুত বিচার কার্যকর করতে হবে| একইসঙ্গে সামাজিকভাবে অপরাধীদের বয়কটের সংস্কৃতিও ˆতরি করা জরুরি|
আমরা প্রায়ই দেখি, কোনো মর্মান্তিক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উত্তাল হয়, প্রতিবাদ হয়, মানববন্ধন হয়; কিন্তু কিছুদিন পর আবার সব স্তব্ধ হয়ে যায়| এই নীরবতাই অপরাধীদের সাহস জোগায়| শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি প্রতিটি নাগরিকের ˆনতিক দায়িত্ব|
আজ যদি আমরা শিশুদের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না| রামিসা, লামিয়া কিংবা নাম না জানা অসংখ্য শিশুর কান্না আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করছে- আমরা কি সত্যিই মানবিক সমাজে বাস করছি?
মন্তব্য করুন