চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কভার করতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা ˆদনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরীকে সংবর্ধনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ঘিরে প্রাণবন্ত আড্ডায় মেতে ওঠেন নিউইয়র্কপ্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকরা|
গত ১৪ জুলাই নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ঘরোয়া এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক, স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, মানবজমিন-এর সাবেক সহকর্মী এবং কমিউনিটির বিশিষ্টজনরা অংশ নেন|
স্মৃতিচারণ, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনায় উঠে আসে মতিউর রহমান চৌধুরীর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা| মানবজমিন-এর সাবেক সহকর্মীরা তার নেতৃত্ব, কর্মদর্শন এবং সংবাদপত্র পরিচালনায় সাহসী ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন| স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকেই|
বক্তারা বলেন, মতিউর রহমান চৌধুরী কেবল একজন সম্পাদক নন; তিনি একজন অভিভাবক, সাহসী সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক এবং নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রেরণার উৎস| সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আপসহীন থাকার শিক্ষা তিনি দীর্ঘদিন ধরে দিয়ে আসছেন|
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতা| একজন সাংবাদিকের সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তিনি একজন সাংবাদিক|”
তিনি সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব সাংবাদিক সমাজেও পড়েছে, যা পেশার জন্য শুভ নয়| তিনি বলেন, “রাজনীতি ব্যক্তিগত বিষয় হতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার পরিচয়ের আগে রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরা পেশার জন্য ক্ষতিকর| সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে|”
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ¯স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি| রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐক্য এবং ¯স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি|
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে মানবজমিন-এর সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী প্রবাসে থেকেও বাংলা সাংবাদিকতাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান|
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও আজকাল-এর কন্ট্রিবিউটিং এডিটর মনোয়ারুল ইসলাম এবং মানবজমিন-এর সাবেক মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল নওশাদ যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন|
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আজকাল-এর সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, ঠিকানা-এর সম্পাদক এম. এম. শাহীন, প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, মঈনুদ্দীন নাসের, আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু, বাংলা পত্রিকা-এর সম্পাদক ও টাইম টিভির সিইও আবু তাহের, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা-এর সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী খোকন, আকবর হায়দার কিরণ, হাসান মাহমুদ, শহীদুল ইসলাম, ফরিদ আলম, নিহার সিদ্দিকী, শফিকুল ইসলাম লুতু, দর্পণ কবীর, শওকত ওসমান রচি, মুজাহিদ আনসারী, রানো নেওয়াজ, আফরোজা ইসলাম, নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী, মনিজা রহমান, তোফাজ্জল লিটন, আপেল মাহমুদ, সাখাওয়াত হোসেন সেলিম, মেরি জোবাইদা, নাসিমা আক্তার শাহানা, অনিক রাজ, আবু সাইম, আবু বকর সিদ্দিক, মাহবুবুর রহমান এবং কার্টুনিস্ট টিপু আলমসহ প্রবাসী সাংবাদিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা|
মন্তব্য করুন