কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেরিতে কথা বলার লক্ষণ সব সময় স্পষ্ট হয় না। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের কাছে গেলে তারা আরও সময় অপেক্ষা করতে বলতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়। অনেকেই ভাবেন, এরা বুঝি অটিজমে আক্রান্ত। ব্যাপারটি তেমন নাও হতে পারে। কথা দেরিতে বলার বহু কারণ আছে। তবে যদি মনে হয় যে আপনার
সন্তান কথা বলতে যথেষ্ট দেরি করছে তবে উপেক্ষা না করাই ভালো। প্রাথমিক ভাবে দেরিতে কথা বলা বিষয়ে দৃষ্টিপাত করতে হয় শিশুটির বয়স অনুযায়ী ধারাবাহিক বিকাশ হচ্ছে কি না তার দিকে। একটি শিশু যখন বড় হতে থাকে; তখন একটি নির্দিষ্ট বয়সে শেখা কিছু নির্দিষ্ট কাজই সে করবে, এটাই ধারণা করা হয়। যেমন তিন মাসের মধ্যে শিশুটির সামাজিক হাসি চলে আসবে, ঘাড় শক্ত হয়ে যাবে ইত্যাদি ।
স্পিচ থেরাপিতে সাহায্য
যদি আপনার বাচ্চা তার বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কথা বলতে না পারে, তাহলে আপনাকে স্পিচ থেরাপিতে সাহায্য করতে হবে। স্পিচ থেরাপি দিয়ে তাদের ভাষা বিকাশে সহায়তা করতে পারে। শিশুর দেরিতে কথা বলার জন্য কিছু ব্যায়াম তাদের প্রতিদিনের কথায় আরও শব্দ শিখতে এবং ব্যবহার করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। শিশুর দেরিতে কথা বলার সমস্যা দূর করার জন্য কিছু টিপস রয়েছে। এগুলো শিশুকে দ্রুত কথা বলতে সাহায্য করবে।
আপনার মতো করে সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন
শিশুর ভাষা বিকাশের জন্য তার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। তাই যখনই সুযোগ পান, তার সঙ্গে কথা বলুন। তাকে গল্প বলুন বা পড়ে শোনান। তাকে কোনো গল্প পড়ে শোনানোর সময় সে খেয়াল করে আপনি শব্দগুলো কীভাবে বলছেন। এভাবে তারা নতুন নতুন শব্দ শিখে বলতে শুরু করবে। ছোট গল্পসহ ছবির বই কিনে দিন যা আপনার সন্তানকে কৌতুহলী করবে। ঘুমের আগে তাদের গল্প পড়ে শোনান।
সামান্য দীর্ঘ বাক্যাংশ ব্যবহার করুন
আপনার নিজের কাজ বা কথা বর্ণনা করার পর, সন্তানের সারাদিনের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইবেন। উদাহরণস্বরূপ, আপনি তাদের খেলনা, রঙ অথবা, চেয়ার, টেবিল, চামচ, বাটি ইত্যাদি তারা যে জিনিসগুলো ব্যবহার করছে সেগুলোর নাম বলতে বলুন। সব সময় সে যে বাক্যগুলো ব্যবহার করছে তার থেকে সামান্য দীর্ঘ বাক্যাংশ বা বাক্য ব্যবহার করতে বলবেন।
ইশারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ শব্দ ব্যাবহার করুন
শিশু যদি ইশারার সাহায্যে যোগাযোগ করতে চায়, তবে সেই ইশারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ এবং অর্থবোধক শব্দ যোগ করে তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। যেমন- শিশু বিদায় জানাতে হাত বাড়ালে আপনি বলুন ‘বাই বাই’ অথবা ‘টা টা’।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু মূল শব্দের আগে অনেক ক্ষেত্রে আগে প্রতীকী শব্দ ব্যবহার শুরু করে। তাই এ ক্ষেত্রে আপনিও প্রাথমিকভাবে প্রতীকী শব্দ ব্যবহারে বেশি গুরুত্ব দিন। যেমন- গাড়ি বোঝাতে পিপ্পিপ্। বেড়াল বোঝাতে মিঁউ মিঁউ ইত্যাদি।
সন্তানের জন্য গান করতে পারেন
শিশুর জন্য সহজ সাধারণ ছড়াগান গাইতে পারেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে সন্তানের সঙ্গে গান করলে তা তাদের কথা বলার ক্ষমতা বাড়াতে পারে। মজার বিষয় হলো, মস্তিষ্কে গান গাওয়া এবং কথা বলার কেন্দ্রগুলো আলাদা। এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে একটি শিশু সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করার অনেক আগেই একটি ছড়াগান গাইতে পারে।
একাধিক শব্দ ব্যাবহারে বিরত থাকুন
একসঙ্গে অনেক শব্দ শেখানোর চেষ্টা করবেন না, এতে শিশু কথা বলার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কিছুটা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাব্যবস্থা। সঠিক সময়ে এই পদ্ধতির কৌশলগত প্রয়োগ হলে শিশু কথা এবং যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমে উন্নতি করবেই।
প্রশংসা করুন
নতুন শব্দ শিখলে তাদের প্রশংসা করতে ভুলবেন না। মৌখিক ইতিবাচক শক্তিবৃদ্ধি তাদের ব্যক্তিত্ব গঠনে একটি দীর্ঘ পথ নিয়ে যেতে পারে
(ডা. রুহুল আমিন : সহকারী অধ্যাপক (শিশু বিভাগ), সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট।)
মন্তব্য করুন