যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের সম্ভাব্য শাটডাউন ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। বাজেট অনুমোদনে কংগ্রেসে সমঝোতা না হওয়ায় এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে দেশটিতে সাত লাখেরও বেশি সরকারি কর্মী বাধ্যতামূলকভাবে ছুটিতে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাজেট অনুমোদন না হয়, তবে সরকার তার অ-অত্যাবশ্যকীয় কার্যক্রমগুলো স্থগিত করতে বাধ্য হবে। ফলে বিপুল সংখ্যক সরকারি কর্মী বিনা বেতনে ছুটিতে যেতে পারেন। যদিও পূর্বের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, শাটডাউন শেষ হলে আইন পাসের মাধ্যমে বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শাটডাউন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে তাৎক্ষণিক মন্দার প্রভাব ফেলবে। সরকারি কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে, পাশাপাশি নাগরিক সেবায় ব্যাঘাত ঘটবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাত বছরের মধ্যে এ ধরনের বড় অচলাবস্থা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে।
গত বুধবার হোয়াইট হাউজের এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন। ভ্যান্স ডেমোক্রেটদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক খেলা খেলার অভিযোগ তোলেন এবং জানান, “ডেমোক্রেটদের অনমনীয় অবস্থানের কারণেই সরকার বন্ধের পথে।”
বিবিসি বাংলার আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বহু সরকারি সংস্থা কংগ্রেস থেকে অনুমোদিত বার্ষিক তহবিলের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর এই সংস্থাগুলো তাদের বাজেট প্রস্তাব কংগ্রেসে জমা দেয় এবং প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের পর পরবর্তী অর্থবছরে তা কার্যকর হয়। কিন্তু পহেলা অক্টোবরের আগে যদি বাজেট চূড়ান্ত না হয়, তবে সরকারি কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়—যা ‘শাটডাউন’ নামে পরিচিত।
লেভিট জানান, “শাটডাউনের কারণে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ব্যাপক ছাঁটাই শুরু হতে পারে। ডেমোক্রেটরা আমাদের এই পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে।” অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা সরকারের কার্যক্রম সচল রাখতে একটি অস্থায়ী ‘স্টপগ্যাপ’ বা অন্তর্বর্তী তহবিল ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে, যা মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। তাদের মতে, এই ব্যবস্থা সরকারের ব্যয় চালিয়ে যাওয়ার একটি সাময়িক সমাধান।
ডেমোক্রেটরা বলছেন, নিম্ন আয়ের আমেরিকানদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা রক্ষা এবং সমঝোতার পরিবেশ তৈরির জন্য এই সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু রিপাবলিকানদের অগ্রাধিকার সরকার সচল রাখা, স্বাস্থ্যসেবা নয় বলে দাবি করা হয়েছে বিবিসির প্রতিবেদনে।
শাটডাউন কার্যকর হলে সীমান্ত রক্ষী ও সেনাবাহিনীর মতো অপরিহার্য কর্মীদের বেতন ছাড়াই কাজ করতে হবে, অথচ অ-অত্যাবশ্যকীয় কর্মীদের বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হবে।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এই অচলাবস্থা ২০১৮ সালের তুলনায় আরও বড় হবে। তখনও কিছু তহবিল পাস করা হয়েছিল, কিন্তু এবার প্রায় ৪০ শতাংশ ফেডারেল কর্মী, অর্থাৎ প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ, সাময়িকভাবে ছুটিতে পাঠানো হতে পারে। কিছু কর্মীকে ইতিমধ্যে ছুটির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফেডারেল কর্মীদের স্থায়ী ছাঁটাইয়ের হুমকিও এসেছে বলে জানা গেছে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসীদের ফেডারেল ভর্তুকিযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার রিপাবলিকানদের প্রস্তাবিত স্বল্পমেয়াদী অর্থায়ন বিলের ওপর আরেক দফা ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশটির কোটি কোটি নাগরিক উদ্বেগের মধ্যে আছেন, কারণ শাটডাউন দীর্ঘ হলে শুধু সরকারি কর্মচারী নয়, পুরো আমেরিকান অর্থনীতি ও সাধারণ জনগণ এর প্রভাবের মধ্যে পড়বে।
মন্তব্য করুন