বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১ অক্টোবর ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যমুনা টিভি ও বাংলা সংবাদের সাংবাদিকের প্রশ্নে মার্কিন মন্ত্রী, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বাংলাদেশকে চাপ নয়

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষকে বেছে নিতে বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার পরিবর্তে দেশটির সামনে বিকল্প তৈরি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগের মতো সংবেদনশীল খাতে বাংলাদেশ যেন একাধিক উৎস থেকে সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগ পায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে ওয়াশিংটন।

 

২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ব্রিফিংয়ে যমুনা টেলিভিশন ও বাংলা সংবাদের সাংবাদিক বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার নীতির প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিক জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র কি বাংলাদেশকে চীন কিংবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিচ্ছে? উত্তরে বেথানি মরিসন বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের এমন একটি কঠিন ভৌগোলিক ও কৌশলগত অঞ্চলে রয়েছে, যেখানে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় একটি বড় প্রতিবেশীর অনেক বেশি কাছাকাছি। ফলে সব সময় কোনো দেশকে একটি নির্দিষ্ট অবস্থান বেছে নিতে বাধ্য করা যায় ‘না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

ইকবাল ফেরদৌসের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেথানি মরিসন। তবে তিনি বলেন, কিছু খাত রয়েছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা। এসবকে সংবেদনশীল খাত হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের নিজস্ব সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়তার কথা বলেন ওই কর্মকর্তা।

 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা হলো, বাংলাদেশ যেন নিজের সার্বভৌমত্ব-গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে পারে। এজন্য ওয়াশিংটন এমন বিকল্প দিতে চায়, যাতে বাংলাদেশকে কোনো একটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে না হয়। চীনা কোম্পানিগুলোর প্রসঙ্গ টেনে ওই কর্মকর্তা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা তাদের সমর্থন রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

 

এমন পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন (ডিএফসি)-এর মতো সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীদারদের মাধ্যমে বিকল্প তৈরির কথা জানান তিনি। ডিএফসি উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিভিন্ন খাতে বেসরকারি বিনিয়োগে অর্থায়ন করে; এর কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে অবকাঠামো ও প্রযুক্তিও রয়েছে।

 

মার্কিন কর্মকর্তা আরও বলেন, ওয়াশিংটন বাংলাদেশকে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে বলছে না। বরং এমন বিকল্প সামনে আনতে চায়, যেগুলো তাদের বিবেচনায় বাংলাদেশের সহনশীলতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর হতে পারে।

 

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেন্টার ফর এনআরবির উদ্যোগে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভা

১

ইতিহাস গড়ল স্টারশিপ প্রথম কক্ষপথে পৌঁছে ২৬টি স্যাটেলাইট স্থাপন

২

সৌদিতে বাংলাদেশি জনশক্তির সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

৩

নিউইয়র্কে সরকারি চাকরির আবেদন সহজ করতে ‘জবস এনওয়াইসি সেন্টার’

৪

বাংলাদেশকে সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র

৫

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন, সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

৬

হলুদ পাতায় হেমন্ত, জাহাঙ্গীর চৌধুরী

৭

ভালোবাসার দেশ, ইশতিয়াক রুপু

৮

বাফেলোর শরৎ, হাবিব ফয়েজি

৯

​নিউইয়র্কে ২৫ মেয়রকে নিয়ে আরবান ২০ সম্মেলন সম্পন্ন

১০

গ্লোবাল বাংলাদেশি চেম্বার অফ কমার্সের যাত্রা শুরু

১১

কম খরচে নিউইয়র্কে বাড়ি কেনার সুযোগ, মিলতে পারে ১ লাখ ডলার

১২

মামদানির ‘ভিশন জিরো’ পরিকল্পনা, নিউইয়র্কে আসছে গাড়িমুক্ত পথচারী এলাকা

১৩

ষাট পেরিয়ে নতুন শুরু: কর্নেল স্যান্ডার্সের জীবন ও কেএফসির বিশ্বজয়ের গল্প

১৪

মিশিগানে আবাসনসংকট: স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আর কত দিন দায় এড়াবে?

১৫

কলম্বাস দিবস: উৎসবের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা আমেরিকার আরেক ইতিহাস

১৬

পিঙ্ক অক্টোবর ২০২৬: গোলাপি রিবনের বার্তা পৌঁছাক মানুষের জীবনে

১৭

জাতিসংঘে বিরল ইতিহাস গড়লেন প্রধানমন্ত্রী

১৮

বিদেশি সাংবাদিকদের ভিসায় সামাজিকমাধ্যম যাচাই শুরু যুক্তরাষ্ট্রের

১৯

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের পুরো ভাষণ

২০