বাংলা সংবাদ ডেস্ক
২৩ জুন ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মার্কিন ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সুমাইয়া সমাজী

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ‘ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন বাংলাদেশি গবেষক সুমাইয়া সমাজী। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের (কেইউ) ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সায়েন্স ফেডারেশন (এনএসএফ) তরুণ গবেষকদের ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড দিয়ে থাকে। এটা তরুণদের জন্য দেশটির সর্বোচ্চ পুরস্কারগুলোর অন্যতম। এই পুরস্কার পাওয়ায় সুমাইয়া সমাজী আগামী পাঁচ বছরে গবেষণার জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ডলার পাবেন।

 

সুমাইয়া সমাজীর বাবা এহসানুল হক সমাজী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী কর্মজীবনে ইউএনডিপি-বাংলাদেশের ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট (সিআরপিসি), স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রসিকিউটোরিয়াল উপদেষ্টা, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

সুমাইয়া সমাজীর গবেষণার বিষয় ‘সরবরাহব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) নিরাপত্তা’। বর্তমান বিশ্বে কম্পিউটার চিপ, ওষুধ ও নিত্যপণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলো নানা হাত ঘুরে গ্রাহকের কাছে পৌঁছায়। এই সরবরাহব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল হওয়ায় পণ্যগুলোর উৎস এবং সেগুলো আসল কি না, তা যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। নকল পণ্য শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই তৈরি করে না, জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

 

সুমাইয়ার গবেষণার লক্ষ্য হলো, এমন একটি নিরাপদ ও উন্নত ডিজিটাল–ব্যবস্থা তৈরি করা, যার মাধ্যমে সহজেই পণ্য ও ব্যক্তির আসল পরিচয় যাচাই করা যাবে। এই প্রযুক্তি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত নকল পণ্য শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। ফলে বড় সরবরাহব্যবস্থা এবং উচ্চ নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়, এমন জায়গাগুলোতে মানুষের আস্থা বাড়বে।

 

সুমাইয়া সমাজীর সঙ্গে এবার কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই সহকারী অধ্যাপক ‘ক্যারিয়ার’ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেমিক্যাল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আনা মোরাইস সহজে রিসাইকেল (পুনরায় ব্যবহারযোগ্য) করা যায় না এমন প্লাস্টিক (পলিপ্রোপাইলিন) নিয়ে কাজ করছেন। অন্যদিকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের জিজুন ইয়াও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিরাপদ ও ঝুঁকিহীন ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গবেষণা করছেন।

 

বর্তমানে কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ জন সহকারী অধ্যাপকের মধ্যে ১১ জনই বিভিন্ন সময় এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগানে মুনার দাওয়াহ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত অংশ নেন হাজারো মানুষ

৬১% মার্কিনি চান সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়ুক নজরদারি

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

চা শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি

শুধু সন্তান জন্মের জন্য বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কত মানুষ

চাকরি হারালেই ৬০ দিন সময় নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাধারীদের জন্য নতুন পরিবর্তনের প্রস্তাব

চুল গজাতে পেয়ারা পাতা—আসলেই কি কাজ করে?

মার্কিন নাগরিকত্ব নীতিতে আবারও ট্রাম্পের কড়াকড়ি, মানলেন না আদালতের রায়

৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক

হ্যাকিং বিতর্কে মেটার এআই, বাড়ছে সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কা

১০

ইসরাইল ইস্যুতে অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ায় কি প্রভাব পড়বে

১১

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের রকেট

১২

আনন্দঘরে বিপুল আনন্দ

১৩

‘জুলাইকার’ এই বিতর্কের জন্য আদালত থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৪

জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া না হলে সেটা জাতির জন্য লজ্জার হবে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

১৫

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রাইমারিতে জয়ী আবদুল আল-সাইয়েদ, ব্যর্থ কোটি কোটি ডলারের প্রচারণা

১৬

মিশিগানে দক্ষিণ সুরমা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বনভোজন অনুষ্ঠিত

১৭

বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাস, ৫ অঞ্চলে মিশন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

১৮

মিশিগানে ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির বনভোজনে প্রাণের উচ্ছ্বাস

১৯

মিশিগানে ডেমোক্র্যাটদের প্রাইমারিতে আল-সাইয়েদকে হারাতে কেন এত মরিয়া ইসারায়েলি লবি এআইপ্যাক

২০