ডোনাল্ড ট্রাম্পের যেমন অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন, তেমনই কমলা হ্যারিসেরও নারীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তবে জেন্ডার বৈষম্যে কমলা হ্যারিস শেষপর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে কতটা সফল হবেন, তা কেবল সময়ই বলে দেবে। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করতে যাচ্ছেন কমলা হ্যারিস। আর দেশের সর্বোচ্চ আসনের এত কাছে আসা দ্বিতীয় নারী তিনি। তবে নিজের লিঙ্গ বা বর্ণকে পরিচয় হিসেবে ব্যবহার করেন না হ্যারিস। সম্প্রতি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কমলা হ্যারিস বলেছেন, ‘দেখুন, আমার বিশ্বাস এই পদের জন্য আমিই যোগ্য মানুষ। তাই নির্বাচনে লড়ছি। এখানে আমার লিঙ্গ বা বর্ণ মুখ্য বিষয় নয়।’ কিন্তু তার সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও জেন্ডার ইস্যুই তার প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠতে চলেছে।
মার্কিনিদের কাছে নারী প্রেসিডেন্ট একটি নতুন বিষয়। এই নতুনত্ব অনেককে আকৃষ্ট করলেও, দেশটিতে এখনও অনেক মানুষ রয়েছে যাদের কাছে নারী নেতৃত্ব খুব একটা পছন্দনীয় নয়। আট বছর আগে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন হিলারি ক্লিনটন। ওই নির্বাচনে নারীবিরোধী মনোভাব বেশ স্পষ্টতই ফুটে উঠেছিল। ২০১৬ সাল থেকে নারীদের জন্য সমাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে। ২০১৭ সালের মি ঠু প্রচারণা কর্মক্ষেত্রে নারীদের প্রতি হওয়া বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করেছে। হ্যারিসের মনোনয়ন পাওয়ার পেছনে এই আন্দোলনের প্রভাবও কাজে লেগেছে। ৫ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন একধরনের অলিখিত গণভোটে পরিণত হতে পারে, যার প্রেক্ষাপটে থাকবে দেশটির বর্তমানে নারী-পুরুষের সামাজিক অবস্থান। আর এ ক্ষেত্রে কমবয়সী পুরুষদের কাছে পৌঁছাতে ট্রাম্পের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন কমলা হ্যারিস। এদিকে, অসস্তুষ্ট পুরুষদের সামলাতে যেন ‘অভিভাবকসুলভ শাসনের’ পথ বেছে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। যেমন: সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বক্তব্যে কিছুটা তিরস্কারের সুরে বলেন, নারী প্রেসিডেন্ট নিয়ে অনেক পুরুষের আপত্তি রয়েছে। সেজন্যই তারা হ্যারিসের যোগ্যতা নেইসহ আরও হাজারটা অজুহাত তুলে ধরছেন। আবার, অভিনেতা এড ও’নিল এক টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একটু চটকদার ও স্পষ্ট এক বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘পুরুষ হোন: এক নারীকে ভোট দিন’ (বি অ্যা ম্যান: ভোট ফর অ্যা উইম্যান)। নিউইয়র্ক টাইমসের এক জরিপে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তার দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ শতাংশে এগিয়ে আছেন। আর নারী ভোটারদের মধ্যে হ্যারিস এগিয়ে আছেন ১২ শতাংশে। তবে এই জরিপের চূড়ান্ত ফলাফলে শেষপর্যন্ত কার বিজয় হয়, এটাই এখন দেখার বিষয়।
মন্তব্য করুন