ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির মুখে দ্বীপটির পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের প্রধান দেশগুলো মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও ডেনমার্কের নেতারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল সেখানের জনগণের। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
২০১৯ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি পুনরায় এই ইস্যু উত্থাপন করে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নিরাপত্তার জন্য দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তার অভিযোগ, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। গত শনিবার ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর থেকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ওয়াশিংটন একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। তবে গ্রিনল্যান্ড বারবার জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।
যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা বলেন, “গ্রিনল্যান্ড কেবল সেটির জনগণের ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডই দ্বীপের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে।” তারা ন্যাটোর অধীনে আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, “নাটোর কোনও সদস্য রাষ্ট্র অন্য সদস্যকে আক্রমণ বা হুমকি দিতে পারে না জোটের অভ্যন্তরে সংঘাত চললে ন্যাটোর অস্তিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়।” নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক শফও এই বিবৃতিকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউজের চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার আন্তর্জাতিক আইন ও ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়ে সিএনএনকে জানিয়েছেন, “আমরা এমন এক বাস্তব পৃথিবীতে বাস করি যা শক্তি ও ক্ষমতা দিয়ে শাসিত।গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক লড়াইয়ে নামবে না।” একই সময়ে তার স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় রাঙানো গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে লেখা ছিল, ‘শিগগিরই’।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন ইউরোপীয় নেতাদের সংহতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আলোচনা করতে হবে।” ডেনমার্কের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে গত বছরই কোপেনহেগেন আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে ৪২ বিলিয়ন ডেনিশ ক্রাউন (প্রায় ৬.৫৮ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করেছে।কৌশলগত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দ্বীপটির বিপুল খনিজ সম্পদ চীনের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি দাবি করেছেন, “ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চান, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকবে। প্রেসিডেন্ট দ্বীপটি জোরপূর্বক দখল করবেন না।”
মন্তব্য করুন