ট্রাম্প প্রশাসনকে অবিলম্বে ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (DV-2027) বা বহুল পরিচিত ‘গ্রিন কার্ড লটারি’র নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। গত ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জিনসুক ওহতা এই জরুরি আদেশ জারি করেন। আদেশে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিওকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত ৩০ দিনব্যাপী আবেদনের উইন্ডো উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে লটারির ফলাফল আগামী ৩ ডিসেম্বর, ২০২৬ এর মধ্যে প্রকাশের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
চলতি বছরের লটারি চক্রটি চালু করতে প্রশাসনের দীর্ঘ বিলম্বকে চ্যালেঞ্জ করে ইমিগ্রেশন আইন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রেড ঈগল ল’ একটি মামলা দায়ের করেছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই এই আইনি হস্তক্ষেপ এলো।
বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জটিলতা
আদালত স্থগিত থাকা লটারি প্রক্রিয়া সচল করার নির্দেশ দিলেও, এতে বাংলাদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণের সুযোগ মিলবে কি না তা এখনও চরম অনিশ্চিত এবং আইনি বেড়াজালে বন্দি। মার্কিন স্থায়ী ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী, বিগত ৫ বছরে যে দেশ থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্থায়ী অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, সেই দেশের নাগরিকরা ডিভি লটারির আবেদনের অযোগ্য বলে বিবেচিত হন। এই উচ্চ অভিবাসন সীমার কারণে ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ডিভি লটারির আবেদন বন্ধ রয়েছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারক ওহতার এই রায় কেবল প্রশাসনকে লটারি প্রক্রিয়াটি ‘পরিচালনা’ করতে বাধ্য করেছে; এটি স্থায়ী আইনের কোনো সংশোধন বা দেশের যোগ্যতা নির্ধারণী নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনেনি।
অফিশিয়াল নির্দেশনার অপেক্ষা
আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা বজায় রাখতে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাবলী এবং চূড়ান্ত “যোগ্য দেশের তালিকা” (Eligible Countries List) প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সেই অফিশিয়াল তালিকা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত, বাংলাদেশের বিগত ৫ বছরের অভিবাসন সংখ্যা নির্ধারিত সীমার নিচে নেমেছে কি না বা দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মূল তালিকায় বাংলাদেশ বাদ পড়লেও বিশেষ কিছু ব্যতিক্রমী নিয়মে বাংলাদেশিরা আবেদন করতে পারেন। যেমন—আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী যদি কোনো যোগ্য দেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন, অথবা আবেদনকারীর জন্মের সময় তাঁর বাবা-মা যদি বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা না হয়ে সাময়িকভাবে অবস্থান করে থাকেন এবং তাদের জন্ম যদি লটারির জন্য অন্য কোনো যোগ্য দেশে হয়ে থাকে।
আগামী নভেম্বরের আবেদনের উইন্ডো সামনে রেখে কোনো প্রকার প্রতারক চক্র বা ভুয়া এজেন্সির খপ্পরে না পড়ে, কেবল মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অফিশিয়াল পোর্টাল (travel.state.gov) অনুসরণ করার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন উপদেষ্টারা।
মন্তব্য করুন