যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি ট্রাস্ট ফান্ড ২০৩২ সালের মধ্যে ফুরিয়ে যেতে পারে—এমন পূর্বাভাসের পর নতুন এক বিশ্লেষণে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তহবিল সংকট দেখা দিলে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অবসরপ্রাপ্তরা মাসিক সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার একটি বড় অংশ হারাতে পারেন।
কমিটি ফর আ রেসপনসিবল ফেডারেল বাজেটের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কংগ্রেস কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যেতে পারে। তখন বর্তমান আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সুবিধা পরিশোধ করা হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৬ বছর ধরে সোশ্যাল সিকিউরিটি কর্মসূচির ব্যয় আয়করের চেয়ে বেশি রয়েছে। ফলে ঘাটতি পূরণে ট্রাস্ট ফান্ডের সঞ্চয় ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩২ সালের দিকে তহবিলের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তহবিল সংকট বাস্তবায়িত হলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা প্রায় ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক আয় প্রায় ৫০০ ডলার পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ কোটি মানুষ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধার আওতায় রয়েছেন। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক ছাড়াও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিরাও রয়েছেন। সুবিধা কমে গেলে দেশটির সব অঙ্গরাজ্যের মানুষই এর প্রভাবের মুখে পড়বেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নিউইয়র্কে সোশ্যাল সিকিউরিটির ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখের বেশি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তহবিল সংকট দেখা দিলে নিউইয়র্কের একজন গড় অবসরপ্রাপ্ত মাসে প্রায় ৫১১ ডলার পর্যন্ত হারাতে পারেন। এতে রাজ্যের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ বাড়তে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ২৯টিতে গড়ে মাসিক সুবিধা কমার পরিমাণ ৫০০ ডলারের বেশি হতে পারে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও ডেলাওয়ারের মতো রাজ্যগুলোতে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তা না হলে ভবিষ্যতে কোটি কোটি অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকের আয় কমে গিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানো আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন