বাংলা সংবাদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

শুল্ক ক্ষমতা নিয়ে সংঘাত: ট্রাম্পকে থামাল সুপ্রিম কোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বহুল আলোচিত বৈশ্বিক শুল্ক নীতিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেওয়া এই রায়ে আদালত জানায়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন শুল্ক আরোপ করতে পারেন না।

 

৬–৩ ভোটের ব্যবধানে দেওয়া রায়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট যে জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছিলেন, সেই আইনে সরাসরি শুল্ক আরোপের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব কংগ্রেসের হাতে।

 

রায় ঘোষণার পরপরই হোয়াইট হাউস বিকল্প পথের ঘোষণা দেয়। প্রশাসন জানায়, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের একটি ধারা ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা পরে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এই শুল্ক সর্বোচ্চ ১৫০ দিন কার্যকর থাকবে। এ সময়ের মধ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

বিরোধী দলীয় নেতারা বলছেন, আদালতের রায়ের মূল বার্তাকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের মতে, ঘনঘন নীতিগত পরিবর্তনে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে আমদানি-রপ্তানি, শিল্প ও ভোক্তা দামে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষায় শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে কিছু দেশ বাণিজ্যে ভারসাম্যহীন সুবিধা পেয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

 

ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান আগের শুল্ক বাবদ দেওয়া অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেস কী অবস্থান নেয় এবং প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই শুল্ক ইস্যুর ভবিষ্যৎ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এই আইনি টানাপোড়েন বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। সব মিলিয়ে শুল্ক নীতিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। আদালতের রায় স্পষ্ট সীমারেখা দেখিয়ে দিলেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন যে এখনই শেষ হচ্ছে না, তা পরিষ্কার।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণভাগ এনসিএম উচ্চ বিদ্যালয়

মিশিগানে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ১৩৬তম তিরোধান উৎসব পালিত

‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনে অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অবদানকে স্বীকৃতি

মিশিগানে হবিগঞ্জ সদর সমিতির অভিষেক ও গুণী জন সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি

জলবায়ু দুর্যোগে শিক্ষার সংকট, ক্ষতিগ্রস্ত ১ কোটি ২৭ লাখ শিশু

মার্কিন ক্যারিয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী সুমাইয়া সমাজী

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে বাড়ছে ফি, আবেদনকারীদের গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ

মিশিগানে ষ্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ প্রার্থী মাহবুব খানের সাথে কমিউনিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সিলেট সদর দক্ষিণ সুরমা অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের অভিষেক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ২৮ জুন

১০

দুই দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

১১

৫ কোটি ২ লাখ অভিবাসী নিয়ে নতুন চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যায়

১২

ট্রাম্পের ব্যবহারের জন্য নতুন বিলাসবহুল এয়ার ফোর্স ওয়ান

১৩

বিদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ জোরদার

১৪

গৃহস্থ ও প্রবীণদের আর্থিক স্বস্তিতে নিউইয়র্কের ২ বিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

১৫

এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ

১৬

২৫০ বছর টিকবে কি যুক্তরাষ্ট্র? প্রশ্ন তুলেছেন ৩৮% মার্কিনি

১৭

মিশিগানে সাবেক এমপি ফরিদ চৌধুরী সরণে দোয়া মাহফিল সম্পন্ন

১৮

ফ্রিল্যান্সিংয়ের নামে ফাঁদ প্রতারকের টোপে পড়ে সর্বস্ব খোয়াচ্ছেন তরুণ-তরুণীরা

১৯

প্রথমবারের মতো ভ্যাকসিন তৈরি করল এআই, রোগ প্রতিরোধে নতুন আশা

২০