যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীরে জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি স্বাক্ষর করেছেন নতুন আইন ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট (One Big Beautiful Bill Act – OBBBA), যা কার্যকর হওয়ার পর থেকে অভিবাসী পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। ৪ জুলাই স্বাধীনতা দিবসের দিনে এই বিল আইনে পরিণত হলেও আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে এর শর্তগুলো কার্যকরভাবে সামনে এসেছে।
এই আইনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সহায়তা প্রোগ্রামগুলোতে অংশগ্রহণ সীমিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা সহায়তা (Medicaid), শিশু স্বাস্থ্য সহায়তা (CHIP), খাদ্য সহায়তা (SNAP) এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন (Affordable Care Act – ACA) এর সাবসিডি থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাদ পড়বেন।
খাদ্য সহায়তা (SNAP) পাওয়ার জন্য এখন ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী সকল ব্যক্তিকে মাসে অন্তত ৮০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে অথবা স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে হবে। আগে এই শর্ত ১৮ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। এর ফলে নিম্নআয়ের অনেক অভিবাসী পরিবার সরাসরি সহায়তা হারাবে।
চিকিৎসা সহায়তা (Medicaid) ও শিশু স্বাস্থ্য সহায়তা (CHIP) পাওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে পাঁচ বছরের অপেক্ষার শর্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। কেবলমাত্র গ্রিন কার্ডধারীরা যারা পাঁচ বছরের অপেক্ষাকাল পূর্ণ করেছেন এবং কিছু বিশেষ শ্রেণিভুক্ত অভিবাসী যেমন কিউবান, হাইতিয়ান বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের নাগরিকরা এই সুবিধা পাবেন। অভিবাসী শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য যে ব্যতিক্রম কিছু রাজ্যে ছিল, সেটিও সীমিত করার পথে।
সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যবিমা আইন (ACA) এর সাবসিডি থেকেও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অভিবাসীরে বড় একটি অংশ বা পড়বেন। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এই সহায়তা কার্যত শুধু নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (CBO) জানিয়েছে, এই আইন কার্যকর হলে আগামী এক শকের মধ্যে প্রায় এক কোটি নয় লাখ মানুষ চিকিৎসা সহায়তা (Medicaid) সুবিধা হারাতে পারেন, যার মধ্যে অন্তত ৫২ লাখ মানুষ সরাসরি কাজের শর্ত পূরণ করতে না পারার কারণে বা পড়বেন। খাদ্য সহায়তা (SNAP) থেকেও কোটি কোটি মানুষ বঞ্চিত হবেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন বসবাসকারী অভিবাসী পরিবারগুলোকেও প্রান্তিক অবস্থায় ঠেলে দেবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় ও লাতিনো পরিবারগুলো, যাদের আয়ের বড় অংশ এসব সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন মারাত্মক সংকটে পড়বেন।
বাংলাদেশী অভিবাসী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রেও এর বড় প্রভাব পড়তে পারে। মিশিগান, নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে হাজার হাজার পরিবার চিকিৎসা সহায়তা (Medicaid) ও খাদ্য সহায়তা (SNAP) এর ওপর নির্ভরশীল। নতুন আইন কার্যকর হলে তাদের অনেককেই বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হতে হবে।
প্রশাসন বলছে, আর্থিক ভারসাম্য আনতে এই পদক্ষেপ জরুরি। কিন্তু অধিকারকর্মীদের মতে, এটি শুধু অর্থনৈতিক নয় বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসী সম্প্রদায়কে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।
মন্তব্য করুন