যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বিমান, তেল ও গ্যাস খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন সাইবার হামলা চালাচ্ছে ইরান। শুক্রবার (২২ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি হ্যাকাররা ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন ও নকল রিক্রুটারের পরিচয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের টার্গেট করছে।
মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান পালো অল্টো নেটওয়ার্কসের ইউনিট ৪২-এর গবেষকদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানি অপারেটররা যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেল-গ্যাস কোম্পানি, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকেও নিশানা করেছে। গবেষকদের মতে, বিমান ও জ্বালানি খাতের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট চলাচল এবং জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান এমন অসম যুদ্ধকৌশল নিতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা।
এই সাইবার হামলায় ভুয়া চাকরির পোস্ট এবং ক্ষতিকর কোড ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি একটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান সংস্থার পরিচয়ও ব্যবহার করা হয়। তবে ইউনিট ৪২ জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্যবস্তু বিমান, তেল বা গ্যাস কোম্পানিগুলোতে হ্যাকাররা সফলভাবে প্রবেশ করতে পারেনি। যদিও বৈশ্বিক এই হ্যাকিং অভিযানে অন্য কিছু প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে হামলা চালানোর মতো দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতা সীমিত থাকায় ওয়াশিংটন এখন সাইবার হামলার ঝুঁকির দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে। গত সপ্তাহে সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস স্টেশনের ট্যাংক রিডার সিস্টেমে একাধিক অনুপ্রবেশের ঘটনায়ও ইরানি হ্যাকারদের সন্দেহ করা হচ্ছে।
এভিয়েশন ইনফরমেশন শেয়ারিং অ্যান্ড অ্যানালাইসিস সেন্টারের প্রেসিডেন্ট জেফরি ট্রয় বলেন, যুদ্ধের পরিণতি হিসেবে আমরা এ ধরনের হামলার আশঙ্কা করছিলাম। ভুয়া আইটি কর্মী বা হেল্পডেস্কের মাধ্যমে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ইরানের হ্যাকিং নেটওয়ার্ক অতীতেও বিদেশে অবস্থানরত ভিন্নমতাবলম্বীদের খুঁজে বের করতে বিমান সংস্থাগুলোকে টার্গেট করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে মার্চ মাসে ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা ইরানের সাইবার ওয়ারফেয়ার সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এতে কতজন সাইবার অপারেটর নিহত হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। গবেষকদের দাবি, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানের কিছু সাইবার গ্রুপ আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে এবং তারা বৈশ্বিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাইবার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন