আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল মালিকদের মনে বিপুল আয়ের যে প্রত্যাশা ছিল, তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক এক ‘হোটেল আউটলুক রিপোর্ট’ অনুযায়ী, বিশ্বকাপের ভরা মৌসুমে হোটেল ব্যবসায় যে জোয়ার আসার কথা ছিল, বাস্তব চিত্র তার উল্টো। আয়োজক শহরগুলোর বেশিরভাগ হোটেলেই বুকিংয়ের হার প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়ে বেশ কম থাকায় এখন বড় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হোটেল মালিকরা।
চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে যৌথ আয়োজক রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল শিল্পের সামনে আসা বিভিন্ন বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়েছে। আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, হিউস্টন, কানসাস সিটি, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, সান ফ্রান্সিসকো এবং সিয়াটলের মতো আয়োজক শহরগুলোর হোটেল মালিকদের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, প্রত্যাশিত বৈশ্বিক চাহিদা এখনো বুকিংয়ে রূপ নেয়নি। তাছাড়া, হোটেল মালিকরা লক্ষ্য করেছেন যে, এবার আন্তর্জাতিক দর্শকদের তুলনায় দেশীয় ভ্রমণকারীদের সংখ্যাই বেশি দেখা যাচ্ছে।
হোটেল বুকিংয়ের চাহিদা এভাবে কমে যাওয়ার পেছনে মূলত কয়েকটি মূল কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফিফার পক্ষ থেকে আগে করা রুম বুকিং বাতিল করা। এছাড়া অনেক দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসার কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা এবং সামগ্রিকভাবে ভ্রমণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়াকেও দায়ী করা হচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে, বুকিংয়ের বর্তমান হার প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কম। হোটেল মালিকদের মতে, ফিফা শুরুতে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত রুম বরাদ্দ বা ব্লক করে রাখায় একটি কৃত্রিম চাহিদা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে সেই অতিরিক্ত বুকিং বাতিল করার পর এখন সংরক্ষিত রুমগুলোর একটি বড় অংশই খালি পড়ে রয়েছে।
জরিপ অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কানসাস সিটির বাজারে। সেখানকার ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে বুকিংয়ের হার প্রত্যাশার চেয়ে এতটাই কম, যা সাধারণ সময়ের জুন বা জুলাই মাসের চেয়েও নিচে নেমে গেছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত ‘ওয়ান্ডারস্টে বুটিক হোটেল’এর মালিক ডেইড্রে ম্যাথিস। বিবিসির সাথে আলাপকালে তিনি জানান, টুর্নামেন্টের সময়কালের (জুন ও জুলাই) বুকিং গত বছরের সংখ্যাকেও ছাড়াতে পারছে না।
ডেইড্রে ম্যাথিস সংবাদমাধ্যমটিকে আরও জানান যে, তাঁর হোটেলটি বর্তমানে মাত্র ৪৫ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, অথচ গত বছরের ঠিক এই সময়ে এটি ৭০ শতাংশ পূর্ণ ছিল। হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বিবিসি-কে বলেন, ‘আমাদের কাছে এই প্রত্যাশা বিক্রি করা হয়েছিল যে বিশ্বকাপ একটি বিশাল বড় আলোড়ন সৃষ্টি করবে এবং মানুষ বছরের পর বছর ধরে এটা নিয়ে কথা বলছে।’ কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা যখন আমাদের ক্যালেন্ডার চেক করলাম এবং দেখলাম যে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসেও আমাদের বুকিং পুরোপুরি শেষ হয়নি, তখন আমরা পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম।’
মন্তব্য করুন