গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের প্রতি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার জোট ‘জিবিএএইচআর’ আহবান করেছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে ৫ দফা দাবিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক গ্লোবাল বাংলাদেশী এলায়েন্স ফর হিউম্যান রাইটস (জিবিএএইচআর) এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহবান করে।
১৪ অগাস্ট বুধবার পূর্ব লন্ডনে ‘জিবিএএইচআর’ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শফিক রেহমান ও মিসেস তালেয়া রেহমান। এছাড়া এ সংবাদ সম্মেলনে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ‘জিবিএএইচআর’ এর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার জাকির হাসান শিশির, সিনিয়র ফেলো শেখ আখলাক আহমেদ, রাকেশ রহমান ও হাসনাত আরিয়ান খান প্রমুখ।
বক্তারা ভারতের সঙ্গে বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তির অধীনে অনুপ চেটিয়াসহ অনেক বন্দি বিনিময়ের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেন, সাম্প্রতিক ছাত্র গণহত্যার বিচারে ভারত সরকারের উচিত বাংলাদেশকে সহায়তা করা। দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যেও এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ‘জিবিএএইচআর’-এর আহবায়ক ও সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘জিবিএএইচআর’ এর পক্ষ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হচ্ছে:
১. দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া সকলকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, আহতদের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
২. সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা, গুম ও বিচার বহির্ভূত সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের সহযোগীদের আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী আদালতে অবিলম্বে বিচার শুরু করা।
৩. গত ১৫ বছরে স্বৈরশাসন আমলে আটক সকল রাজবন্দির মুক্তি এবং তাদের নিপীড়নের শিকার হয়ে নির্বাসিত শত শত লেখক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা ও তাদেরকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
৪. আগামী ১ বছরের মধ্যে দেড় কোটি প্রবাসীর এনআইডি ও ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাদের ভোট প্রদানের নিশ্চয়তাবিধান করা।
৫. মানবাধিকারের সকল আন্তর্জাতিক ঘোষণা, কনভেনশন ও বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা অনুসারে সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সমাজের সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়নে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
মন্তব্য করুন