বাংলা সংবাদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩:১৫ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ইমিগ্র্যান্ট নাগরিকদের নাগরিকত্ব খারিজে জোর দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

ইমিগ্র্যান্ট নাগরিকদের নাগরিকত্ব খারিজের প্রক্রিয়া জোরদার করতে উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষ করে নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় জালিয়াতি বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

 

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থাকে আগামী অর্থবছরে প্রতি মাসে একশো থেকে দুইশোটি সম্ভাব্য নাগরিকত্ব খারিজের মামলা বিচার বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্যভাবে বড় পদক্ষেপ। ২০১৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মিলিয়ে এ ধরনের মাত্র একশো বিশটির কিছু বেশি মামলা দায়ের হয়েছিল। সংস্থাটি মাঠ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছে এবং কর্মীদের পুনর্বিন্যাস করছে, যাতে নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য বা গোপন তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে—এমন ঘটনা শনাক্ত করা যায়। চিহ্নিত মামলাগুলো পরে বিচার বিভাগের আইনজীবীদের কাছে পাঠানো হবে, যাদের আদালতে তা প্রমাণ করতে হবে।

 

ফেডারেল আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব খারিজ করা সহজ নয়। আবেদনকারীর ভুল বা গোপন তথ্য নাগরিকত্বের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে—এটি আদালতে স্পষ্ট ও শক্ত প্রমাণসহ দেখাতে হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির ক্ষেত্রে প্রশাসনের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বহাল রয়েছে। তার ভাষ্য, যারা মিথ্যা বলেছে বা তথ্য গোপন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে প্রশাসন বলছে, নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে না; বিদ্যমান আইনই কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

 

কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থকরা মনে করছেন, নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষায় এ উদ্যোগ প্রয়োজনীয়। তাদের মতে, যারা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকার রক্ষাকারীরা সতর্ক করেছেন—সংখ্যাগত লক্ষ্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াটিকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এতে আইন মেনে চলা নাগরিকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে এবং দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বাড়তে পারে, এমনকি যেসব মামলা শেষ পর্যন্ত টিকবে না সেগুলোতেও।

 

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকত্ব খারিজের মামলা ঐতিহাসিকভাবে বিরল এবং প্রমাণের মানদণ্ডও অত্যন্ত উচ্চ। সর্বোচ্চ আদালতও স্পষ্ট করেছে—যে তথ্য গোপন বা বিকৃত করা হয়েছে, তা নাগরিকত্বের সিদ্ধান্তে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হতে হবে। তবে প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার—নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনে বহু বছর পরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব কেবল তাদের জন্যই সংরক্ষিত থাকা উচিত, যারা আইন মেনে তা অর্জন করেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের নেতৃত্বে প্রথম সাউথ এশিয়ান ইউনিটি প্যারেড

অবশেষে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

২৩৮ মিলিয়ন ডলার লোকসান গুনল ট্রাম্পের মিডিয়া কোম্পানি

শিশুদের টিকা নীতিতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ নিয়ে চিকিৎসকদের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করল ট্রাম্প প্রশাসন

মিশিগানে বাংলা প্রেস ক্লাব ইউএস এর ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পারিবারিক মিলনমেলা

ইরানের হামলার আশঙ্কায় খাবারের কার্টে করে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

মিশিগানে ১৫ আগস্ট শুরু হচ্ছে দুই দিনব্যাপী ফুলমুন ইসলামিক কালচারাল ফেস্টিভ্যাল

মিশিগানে আম-কাঁঠালি উৎসবে বাঙালির মিলনমেলা

মিশিগানে মুনার দাওয়াহ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত অংশ নেন হাজারো মানুষ

১০

৬১% মার্কিনি চান সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর বাড়ুক নজরদারি

১১

হরমুজ খুলে দিলে এখন পারমাণবিক চুক্তি ছাড়াই ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে রাজি ট্রাম্প

১২

চা শ্রমিকদের গণবিক্ষোভ, দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারি

১৩

শুধু সন্তান জন্মের জন্য বছরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান কত মানুষ

১৪

চাকরি হারালেই ৬০ দিন সময় নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাধারীদের জন্য নতুন পরিবর্তনের প্রস্তাব

১৫

চুল গজাতে পেয়ারা পাতা—আসলেই কি কাজ করে?

১৬

মার্কিন নাগরিকত্ব নীতিতে আবারও ট্রাম্পের কড়াকড়ি, মানলেন না আদালতের রায়

১৭

৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ কলেজ অধ্যাপক

১৮

হ্যাকিং বিতর্কে মেটার এআই, বাড়ছে সাইবার ঝুঁকির আশঙ্কা

১৯

ইসরাইল ইস্যুতে অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ায় কি প্রভাব পড়বে

২০