যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা মুসলিমদের ‘ট্রোজান হর্স’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মন্তব্য করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস। মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে মুসলিম প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন মন্তব্য করেন সাউথ ক্যারোলাইনার এই কংগ্রেসওম্যান।
গত ৭ আগস্ট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেস দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই ‘ট্রোজান হর্স’ এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রজাতন্ত্রের জন্য হুমকি। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে সব মুসলিম জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে এমন মন্তব্যের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে সিএনএনের এক লাইভ সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে মেসকে প্রশ্ন করেন অ্যাঙ্কর ওমর জিমেনেজ। তিনি জানতে চান, মেস কি তাহলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পদে থাকা প্রত্যেক মুসলিমই দেশের জন্য হুমকি। জবাবে মেস বলেন, তিনি সব মুসলিমকে হুমকি হিসেবে দেখছেন না এবং তার উদ্বেগ মূলত ‘র্যাডিক্যাল ইসলাম’ নিয়ে।
তবে জিমেনেজ মেসের আগের বক্তব্যের সঙ্গে এই ব্যাখ্যার অসঙ্গতি তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে সংবিধানের ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় পরীক্ষা আরোপ করা যায় না।
সাক্ষাৎকারে মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেস এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে আমেরিকানদের নাতনিদের স্কুলে বোরকা পরে যেতে হতে পারে। তার এ বক্তব্যের পাল্টা প্রশ্ন করেন জিমেনেজ। কোনো মুসলিম রাজনীতিক নির্বাচিত হলেই অন্য ধর্মের মানুষের ওপর ইসলামি পোশাক বা ধর্মীয় অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়া হবে, এমন ধারণার সাংবিধানিক বা বাস্তব ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মেসের মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। মুসলিম পরিচয়ের এল-সায়েদের রাজনৈতিক উত্থানের পর তাকে ঘিরে ধর্মীয় পরিচয়কেন্দ্রিক আক্রমণও বেড়েছে। মেস তার বক্তব্যে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানিকেও টেনে আনেন।
তবে সমালোচনার মুখে মেস দাবি করেছেন, তার আপত্তি মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয়ের বিরুদ্ধে নয়; বরং তিনি যাকে ‘র্যাডিক্যাল ইসলামিক আইডিওলজি’ বলছেন, তার বিরোধিতা করছেন। সমালোচকেরা অবশ্য বলছেন, তার মূল পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো উগ্রপন্থী ব্যক্তি বা সংগঠনের পরিবর্তে সরকারি পদে থাকা ‘প্রত্যেক মুসলিমকে’ একসঙ্গে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
মেসের মন্তব্যকে ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মহলের মানুষ সমালোচনা করেছেন। এ বিতর্ক একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নির্বাচিত পদে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোনো প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়কে কতটা সামনে আনা উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে।
মন্তব্য করুন