২০২৬ বিশ্বকাপের কম বয়সী ৭ ফুটবলার 
দেশে সংঘাত, মাঠে প্রস্তুতি—বিশ্বকাপকে ঘিরে ইরানি ফুটবলারদের ব্যস্ততা
ফুটবল বিশ্বকাপ ইতিহাসে এ পর্যন্ত কোন দেশ কতবার চ্যাম্পিয়ন
বিশ্ব মাতোয়ারা ফুটবল জ্বরে, কানাডা, মেক্সিকোর সঙ্গে আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র
পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য, নাহিদের নৈপুণ্যে মিরপুরে রেকর্ডের দিন
আইপিএলে উপেক্ষিত মোস্তাফিজকে দ্রুত দলে ভেড়াল পিএসএল

ভারতীয় উগ্রবাদীদের হুমকির প্রেক্ষাপটে মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর চাহিদা যে অটুট, তা আবারও প্রমাণিত হলো। বসে থাকার সুযোগ না দিয়ে বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসারকে দলে ভেড়াল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)।    পাকিস্তানের জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটিতে নাম লেখানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিএসএলের অফিশিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। পিএসএলের অফিসিয়াল পেজে মোস্তাফিজের ছবি প্রকাশ করে লেখা হয়, ‘ব্যাটসম্যানদের সাবধানে খেলতেই হবে…এইচবিএল পিএসএল ১১-এ যোগ দিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।’ এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাত বছর পর আবারও পিএসএলের মঞ্চে ফিরছেন বাংলাদেশি এই পেসার।      আইপিএলের আদলে আয়োজিত পিএসএলের এবারের আসর শুরু হবে আগামী ২৬ মার্চ, শেষ হবে ৩ মে। এর আগে ২০১৮ সালে একবার পিএসএল খেলেছিলেন মোস্তাফিজ। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে পাঁচ ম্যাচে চার উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর আবার এই লিগে দেখা যাবে তাঁকে। যদিও এখনো মোস্তাফিজ কোন দলে খেলবেন, তা চূড়ান্ত হয়নি। প্লেয়ার্স ড্রাফটের মাধ্যমে তাঁর দল নির্ধারিত হবে। ড্রাফটের সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারই প্রথম আট দল নিয়ে আয়োজন করা হচ্ছে পিএসএল। একাদশ আসরের এই টুর্নামেন্টকে লিগটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।      এর আগে গত শনিবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স তাদের স্কোয়াড থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়। চলতি মৌসুমের নিলামে চেন্নাই সুপার কিংস ও দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কলকাতা। এই দামে তিনি আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মূল্য পাওয়া বাংলাদেশি ক্রিকেটার হন। তবে নানা জটিলতায় শেষ পর্যন্ত এবারের আইপিএলে তাঁর খেলা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে লাভবান হলো পিএসএল। বিশ্বের অন্যতম কার্যকর বাঁহাতি পেসারকে দলে পাওয়ায় লিগটির প্রতিযোগিতামূলক মান আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

১৫০ ম্যাচে ইয়ামালের অবস্থান, তখনকার মেসি কোথায় ছিলেন 

বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ১৫০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন লামিনে ইয়ামাল। বয়স মাত্র ১৮। এত অল্প বয়সেই ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে এমন উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই বিস্ময় জাগাচ্ছে মাঠে তাঁর পারফরম্যান্স সেই বিস্ময়কে আরও গভীর করেছে আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা—যিনি একইভাবে বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে এসে ক্লাবটির ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে উঠেছেন।     ইয়ামাল কি মেসির সেই পথেই এগোতে পারবেন—এই প্রশ্ন এখন ঘুরছে ফুটবল অঙ্গনে। শুরুটা নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ হলেও, মেসির দীর্ঘদিনের অতিমানবীয় ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই হবে ইয়ামালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মেসির উচ্চতায় পৌঁছানো আদৌ সম্ভব কি না, তার উত্তর সময়ই দেবে। তবে এটুকু স্পষ্ট, ফুটবলপ্রেমীরা এখন এক তরুণ প্রতিভার সম্ভাব্য রাজা হয়ে ওঠার যাত্রা প্রত্যক্ষ করছেন। যদিও ইয়ামাল নিজে বারবারই জানিয়েছেন, তিনি মেসির ছায়ায় থাকতে চান না; বরং নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলতে চান। তবুও পরিসংখ্যান সামনে এলে এই তুলনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।     সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো বয়সের পার্থক্য। ইয়ামাল ১৫০তম ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে। বিপরীতে, মেসি ২০০৮ সালে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন ২১ বছর বয়সে অর্থাৎ, একই সংখ্যক ম্যাচের অভিজ্ঞতায় ইয়ামাল মেসির তুলনায় অনেক কম বয়সেই পৌঁছে গেছেন যেখানে ১৮ বছর বয়সে মেসি বার্সেলোনার মূল একাদশে নিজের জায়গা পাকা করার লড়াই করছিলেন, সেখানে ইয়ামাল ইতোমধ্যেই নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের কাতারে নিয়ে এসেছেন।      তবে ১৫০ ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানের ব্যবধান খুব বড় নয়। গোলের হিসাবে এগিয়ে মেসি—এই সময়ে তাঁর গোল ছিল ৫৮টি, ইয়ামালের ৪০টি। কিন্তু অ্যাসিস্টে এগিয়ে ইয়ামাল। তাঁর অ্যাসিস্ট সংখ্যা ৫৭টি, যেখানে মেসির ছিল ৩১টি।গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট গোলে অবদানে ইয়ামাল সামান্য এগিয়ে—৯৭টি, মেসির ছিল ৮৯টি। মিনিটপ্রতি অবদানেও পার্থক্য নগণ্য। ইয়ামাল প্রতি গড়ে ১১২.৮ মিনিটে একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন, মেসি করতেন প্রতি ১১৪.৭ মিনিটে। সংখ্যা সব সময় পুরো গল্প বলে না। তবে কখনো কখনো সংখ্যাই ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেয়। লামিনে ইয়ামালের ক্ষেত্রে সেই ইঙ্গিত যে জোরালো—তা মানতে দ্বিধা নেই।       

আরও