যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য সেপ্টেম্বর মাসে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। কর্মসংস্থানভিত্তিক কয়েকটি শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই চূড়ান্ত অনুমোদন আটকে যেতে পারে। এর পাশাপাশি ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন পাবলিক চার্জ নীতি, যেখানে গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।
নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই কর্মসংস্থানভিত্তিক কয়েকটি গ্রিন কার্ড শ্রেণিতে ভিসা নম্বর শেষ হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করলেও শুধু ভিসা নম্বর না থাকায় আবেদনকারীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আটকে যেতে পারে। সেপ্টেম্বরের সরকারি ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিকদের ইবি-১ শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ শ্রেণিতে ভারতীয় আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২২ নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ভিসা নম্বর শেষ হয়ে গেলে ৩০ সেপ্টেম্বরের আগেই শ্রেণিটি অনুপলব্ধ ঘোষণা হতে পারে। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ইবি-২ এবং সংরক্ষিত নয় এমন ইবি-৫ শ্রেণির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখও পিছিয়ে যেতে পারে।
ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভারতীয় আবেদনকারীদের জন্য ইবি-২ ও সংরক্ষিত নয় এমন ইবি-৫ ভিসার বার্ষিক সীমা ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়েছে। ফলে ২০২৬ অর্থবছরের বাকি সময়ে এসব শ্রেণিতে ভারতীয় আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া যাবে না। অন্যান্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য শ্রেণি দুটি চালু থাকলেও চাহিদা বাড়লে তাঁদেরও বিলম্ব বা নতুন বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে কোনো ভিসা শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ হয়ে গেলে অনুমোদিত অভিবাসন আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আই-৪৮৫ ফরমের মাধ্যমে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা হলে নতুন ভিসা নম্বর পাওয়া পর্যন্ত মামলা অপেক্ষমাণ রাখা হতে পারে। কনস্যুলার প্রক্রিয়ায় থাকা আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় ধাপ শেষ হলেও ভিসা নম্বর না থাকলে অভিবাসী ভিসা ইস্যু করা যাবে না।
অভিবাসন আইনজীবী নন্দিনী নায়ার বলেন, অধিকাংশ আবেদনকারীর মামলা প্রত্যাখ্যান বা বাতিল হবে না। তবে অনুমোদনের শেষ পর্যায়েও ভিসা নম্বরের অভাবে আবেদন অপেক্ষমাণ হয়ে যেতে পারে। বহু বছর বা কয়েক দশক ধরে অপেক্ষা করা আবেদনকারীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে হতাশাজনক। এদিকে ২০২৬ অর্থবছর ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে ১ অক্টোবর নতুন অর্থবছর শুরু হবে। তখন কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী ভিসার নতুন বার্ষিক বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তবে নতুন অর্থবছর শুরু হলেই সব আবেদন সচল হবে বা অগ্রাধিকার তারিখ আগের অবস্থায় ফিরে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করবে অগ্রাধিকার তারিখ, ভিসার চাহিদা, নতুন বরাদ্দ এবং ভিসা নম্বর ব্যবহারের গতির ওপর।
অন্যদিকে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন পাবলিক চার্জ নীতি। ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির চূড়ান্ত বিধি অনুযায়ী, ওই দিন বা তার পরে ডাকযোগে পাঠানো কিংবা অনলাইনে জমা দেওয়া আই-৪৮৫ আবেদন নতুন নিয়মে মূল্যায়ন করা হবে। নতুন নীতিতে কর্মকর্তারা আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, সম্পদ, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে পারবেন। ১৮ সেপ্টেম্বর বা তার পরে গ্রহণ করা আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধাও পর্যালোচনায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এর আগে নেওয়া সুবিধা আগের সীমিত নীতির অধীনে বিবেচিত হবে।
নন্দিনী নায়ারের মতে, সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই গ্রিন কার্ড আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রত্যাখ্যাত হবে না। তবে নতুন নীতিতে আবেদনকারীর আর্থিক অবস্থা ও অতীতে সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি আরও বিস্তৃতভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা। পরিবার ও কর্মসংস্থানভিত্তিক অনেক আবেদনকারী, ডাইভারসিটি ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং ধর্মীয় কর্মীরা এ নীতির আওতায় পড়তে পারেন। তবে শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, মানবপাচার ও নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার, নারী নির্যাতনবিরোধী আইনের অধীনে স্বতন্ত্র আবেদনকারী এবং বিশেষ অভিবাসী কিশোরসহ কয়েকটি শ্রেণি পাবলিক চার্জ বিধান থেকে অব্যাহতি পাবে।
মন্তব্য করুন