বাংলা সংবাদ ডেস্ক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী যেসব মুসলিম সুদ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, গাড়ি কেনা কিংবা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে অনেক সময় দ্বিধা তৈরি হয়। তবে দেশটির আর্থিক ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে সুদ ছাড়াই এসব সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামি স্কলার ফিকহ বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামতেও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কিছু বিকল্প ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি আর্থিক চুক্তির শর্ত আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি।

 

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সুদ এড়ানোর সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই যে অবশ্যই সুদ দিতে হবে, এমন নয়। যেসব কার্ডে গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে, সেখানে নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো স্টেটমেন্ট ব্যালেন্স পরিশোধ করলে সাধারণ কেনাকাটার ওপর সুদ না দেওয়ার সুযোগ থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার জন্য গ্রেস পিরিয়ড থাকে। তবে সব কার্ডে এই সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। কার্ডভেদে শর্তও আলাদা হতে পারে। ধরা যাক, কেউ এক মাসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে এক হাজার ডলারের কেনাকাটা করলেন। গ্রেস পিরিয়ড প্রযোজ্য থাকা অবস্থায় নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পুরো এক হাজার ডলার পরিশোধ করলে ওই কেনাকাটার জন্য সুদ দিতে হয় না। কিন্তু পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ না করে শুধু ন্যূনতম পেমেন্ট দিলে সুদ আরোপ হতে পারে। ক্যাশ অ্যাডভান্সের ক্ষেত্রেও সাধারণ কেনাকাটার মতো নিয়ম প্রযোজ্য নয়। সেখানে দ্রুত সুদ শুরু হতে পারে।

 

এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞদেরও শর্তসাপেক্ষে কিছু অনুমোদন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাসেম্বলি অব মুসলিম জুরিস্টস অব আমেরিকা বা এএমজেএর একটি ফতোয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রয়োজনের বাস্তবতা বিবেচনায় ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। এএমজেএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যবহারকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন এবং সুদ কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি করবেন না। সংস্থাটির আরেকটি সিদ্ধান্তেও গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো পাওনা পরিশোধের শর্তে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অনুমতির কথা বলা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের ক্রেডিট কার্ডকে ইসলামি স্কলাররা সুদমুক্ত বা শরিয়াহসম্মত ঘোষণা করেছেন। বিশেষ করে বিলম্ব হলে সুদ দিতে হয়, এমন চুক্তি গ্রহণের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই কার্ড নেওয়ার আগে চুক্তি, সুদের শর্ত, গ্রেস পিরিয়ড, ক্যাশ অ্যাডভান্স এবং বিলম্বিত পেমেন্টের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।

 

গাড়ি কেনায় শূন্য শতাংশ ফাইন্যান্সিং

গাড়ি কেনার ক্ষেত্রেও সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন ক্রেতাদের সামনে কিছু বিকল্প রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন গাড়ি নির্মাতা ও ডিলার সময় সময় নির্দিষ্ট গাড়ি, মেয়াদ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শূন্য শতাংশ বা ০ শতাংশ এপিআর ফাইন্যান্সিংয়ের অফার দিয়ে থাকে। তবে এসব অফার সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ভালো ক্রেডিট স্কোর, নির্দিষ্ট গাড়ির মডেল, ডাউন পেমেন্ট, ঋণের মেয়াদ কিংবা অন্যান্য শর্ত থাকতে পারে। ইসলামি ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মঞ্জের কাহফের প্রকাশিত ফতোয়াতেও যুক্তরাষ্ট্রে ০ শতাংশ গাড়ি ফাইন্যান্সিং নিয়ে ইতিবাচক মতামত পাওয়া যায়। একটি ক্ষেত্রে তিনি এমন গাড়ি কেনার ব্যবস্থাকে অনুমোদনযোগ্য বলেছেন, যেখানে ক্রেতার সঙ্গে সরাসরি চুক্তিতে সুদের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা নেই এবং ডিলার নিজস্ব খরচের অংশ হিসেবে অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ করেন।

 

তার ব্যাখ্যায় মূল বিষয় হলো ক্রেতার সঙ্গে করা চুক্তির প্রকৃতি। আরেকটি ফতোয়ায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সুদভিত্তিক ফাইন্যান্সিং এড়িয়ে চলার কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গাড়ি ডিলারের কাছ থেকে ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিংয়ের সুযোগ পাওয়া যায়। তবে বাজারের অফার ও চুক্তির শর্ত সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট গাড়ির অফার শরিয়াহসম্মত কি না, তা চুক্তি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই নিরাপদ। এ ক্ষেত্রে ০ শতাংশ এপিআর লেখা থাকলেই কোনো গাড়ির ফাইন্যান্সিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলামি দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। চুক্তিতে বিলম্বের সুদ, অতিরিক্ত চার্জ, মালিকানা, লিজের কাঠামো এবং অন্যান্য শর্ত কী রয়েছে, তা দেখতে হবে। একইভাবে কোনো ডিলার গাড়ির দাম বাড়িয়ে নির্দিষ্ট কিস্তিতে বিক্রি করলে সেটি সরাসরি সুদভিত্তিক ঋণের সমান কি না, তা চুক্তির কাঠামোর ওপর নির্ভর করে।

 

বাড়ি কেনায় ইসলামি ফাইন্যান্সিংয়ের বিকল্প

যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি বিকল্প তৈরি হয়েছে। প্রচলিত মর্টগেজের পরিবর্তে ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলো মুরাবাহা, ইজারা এবং ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো কাঠামো ব্যবহার করে থাকে। ডিমিনিশিং মুশারাকায় সাধারণভাবে ক্রেতা ও ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাড়ির মালিক হন। ক্রেতা মাসিক পেমেন্টের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানের মালিকানার অংশ কিনে নেন। শেষ পর্যন্ত বাড়ির সম্পূর্ণ মালিকানা ক্রেতার কাছে চলে আসে।

 

মুরাবাহায় ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠান বাড়ি কিনে নির্ধারিত লাভ যোগ করে গ্রাহকের কাছে একটি নির্দিষ্ট মোট মূল্যে বিক্রি করে। অন্যদিকে, ইজারায় লিজ বা ভাড়াভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তরের ব্যবস্থা থাকতে পারে। বাড়ির ফাইন্যান্সিং নিয়ে এএমজেএর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইসলামিক হোম ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর চুক্তি পর্যালোচনার পর সংস্থাটির রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি কিছু প্রতিষ্ঠানের কাঠামো নির্দিষ্ট শর্তে শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাদের পর্যালোচনায় মুরাবাহা, ডিমিনিশিং মুশারাকা ও ইজারার মতো চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

আরও সাম্প্রতিকভাবে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এএমজেএর রেসিডেন্ট ফতোয়া কমিটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়া কোম্পানির ডিমিনিশিং পার্টনারশিপ বা ধীরে ধীরে মালিকানা হস্তান্তরভিত্তিক হোম ফাইন্যান্সিং চুক্তি পর্যালোচনা করে সেটিকে ইসলামি আইনের অধীনে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছে। তবে কমিটি একই সঙ্গে স্বাধীন শরিয়াহ তদারকি বোর্ড রাখার পরামর্শ দিয়েছে এবং চুক্তিতে নির্ধারিত শর্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। এএমজেএর আগের পর্যালোচনায় মুবরাক মর্টগেজের মুরাবাহা চুক্তিকেও শরিয়াহসম্মত হিসেবে গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, কোনো কোম্পানির চুক্তি পরিবর্তিত হলে আগের ফতোয়ার অবস্থানও পরিবর্তিত হতে পারে। অর্থাৎ, শুধু কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ইসলামিক ফাইন্যান্সের সঙ্গে যুক্ত থাকলেই সেটির বর্তমান চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ধরে নেওয়া যাবে না।

 

চুক্তির শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

ইসলামিক ফাইন্যান্স মানে শুধু প্রচলিত সুদের নাম পরিবর্তন করা নয়। প্রকৃত মালিকানা কার, সম্পদের ঝুঁকি কে বহন করছে, লাভ কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে, বিলম্ব হলে কী হচ্ছে, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও ইন্স্যুরেন্সের দায়িত্ব কার এবং চুক্তি শেষ হলে সম্পদের মালিকানা কীভাবে হস্তান্তর হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন মুসলিমদের জন্য বাস্তব কিছু পথ রয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে পুরো ব্যালেন্স পরিশোধ করে সুদ এড়ানোর সুযোগ কিছু ইসলামি ফিকহ বিশেষজ্ঞ শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছেন। গাড়ির ক্ষেত্রে প্রকৃত ০ শতাংশ ফাইন্যান্সিং কিংবা চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী শরিয়াহসম্মত বিকল্প বিবেচনা করা যেতে পারে। আর বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মুরাবাহা, ইজারা ও ডিমিনিশিং মুশারাকার মতো ফাইন্যান্সিং ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রে চালু রয়েছে।

 

তবে এগুলো কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পরিবারের জন্য আর্থিক কিংবা ধর্মীয় সিদ্ধান্তের নির্দেশনা নয়। একজনের জন্য যে ব্যবস্থা উপযুক্ত হতে পারে, অন্যজনের জন্য তা নাও হতে পারে। বিশেষ করে ইসলামি ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে এবং চুক্তির সামান্য পরিবর্তনেও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে। তাই সুদ এড়িয়ে চলতে চান এমন কেউ ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি বা বাড়ির ফাইন্যান্সিং নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পুরো চুক্তি ভালোভাবে পড়ুন। মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সব ধরনের ফি ও জরিমানার শর্ত কী এবং চুক্তিতে সুদের কোনো বাধ্যবাধকতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি। প্রয়োজনে যোগ্য ও বিশ্বস্ত ইসলামি স্কলার বা ইসলামিক ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থার তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মিশিগানে বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভা ও এডভোকেট ই ইউ শহিদুল ইসলাম শাহিনকে সংবর্ধনা

গ্রিন কার্ডের পথে নতুন বাধা, ভিসা নম্বর ও পাবলিক চার্জে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে কিছু অভিবাসীদের ফেডারেল মেডিকেইড হারানোর ঝুঁকিতে

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পর কাজের অনুমতিতে লাগবে ১ লাখ ডলারের ফি

ডাবলিনে পর্তুগিজ বাংলাদেশি কমিউনিটি ইন আয়ারল্যান্ডের উদ্যোগে জমকালো মিলনমেলা 2026 অনুষ্ঠিত

আয়ারল্যান্ড একীভূত হওয়ার পক্ষে ট্রাম্প, ক্ষুব্ধ লন্ডন

যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-২বি ভিসার কোটা পূর্ণ, বাংলাদেশিদের এখনও বিকল্প পথ খোলা

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কি সত্যিই আর ১৪ দিনের তেল মজুত আছে?

আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ডেট্রয়েটে শুরু হচ্ছে ‘আবিয়া বাইেনিয়াল কনভেনশন ২০২৬’

১০

বড়লেখা সীমান্তে বিদেশি অস্ত্র ও মাদকসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

১১

নাগরিকত্ব আবেদনকারীদের বিষয়ে প্রতিবেশী ও কর্মস্থলে তদন্ত করতে পারবে USCIS

১২

১৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হচ্ছে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়ম

১৩

লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’, ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত

১৪

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে ৫০ শতাংশ পালটা শুল্ক কানাডার

১৫

কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির মামলা, ১৭ বিলিয়ন ডলারের সমঝোতা মেটার

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীবিরোধী অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার গ্রেপ্তার

১৭

২০২৭ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়তে পারে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ

১৮

মিশিগানে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন কলেজের সাবেক ভিপি নজমুল আজিজকে সংবর্ধনা

১৯

বিশ্বজুড়ে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট কার্যক্রম বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

২০