আয়ারল্যান্ডকে একীভূত করার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আয়ারল্যান্ড একীভূত হলে তা হবে ‘চমৎকার’।
শনিবার ডাবলিন সফরের সময় আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিনের পাশে বসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে চান না, তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি একটি একীভূত আয়ারল্যান্ড দেখতে চান। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর লন্ডনে এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
এর আগে পার্লামেন্টে সম্ভাব্য গণভোটের বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, নতুন গণভোটের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমর্থন রয়েছে—এমন কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে গণভোট আয়োজনেরও কোনো পরিকল্পনা নেই। ১৯৯৮ সালের গুড ফ্রাইডে চুক্তি অনুযায়ী, উত্তর আয়ারল্যান্ড যুক্তরাজ্যের অংশ থাকবে নাকি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে—এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা ব্রিটিশ সরকারের হাতে রয়েছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই চুক্তি।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির নেতা গ্যাভিন রবিনসন বলেন, অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বিষয়টি ট্রাম্পের নয়, বরং সেখানকার জনগণের। তার মতে, সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত স্থানীয় জনগণই নেবেন। এদিকে বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ এখনো যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থাকার পক্ষে। তবে আগের তুলনায় ব্যবধান কিছুটা কমেছে। বিশেষ করে ব্রেক্সিটের পর আয়ারল্যান্ডের একীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
ডাবলিন সফরে ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্যাথরিন কনলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সফরকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ট্রাম্পবিরোধী ও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড, গাজা পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের নীতি এবং সফরের নিরাপত্তায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, সফরের নিরাপত্তায় ব্যয় করা অর্থ স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক খাতে ব্যবহার করা হলে সাধারণ মানুষ বেশি উপকৃত হতো।
মন্তব্য করুন