আগামী ১ অক্টোবর থেকে অভিবাসন মর্যাদাভিত্তিক নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত কিছু অভিবাসী ফেডারেল অর্থায়নে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেইডের যোগ্যতা হারাতে পারেন। শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মানবিক কারণে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাওয়া কয়েকটি শ্রেণি এ পরিবর্তনের প্রভাবের মুখে পড়বেন।
এনওয়াই স্টেট অব হেলথের ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অভিবাসন মর্যাদার ভিত্তিতে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ১ অক্টোবর থেকে মেডিকেইডের যোগ্যতা হারাতে পারেন। প্রভাবিত ব্যক্তিদের এ বিষয়ে নোটিশ পাঠানো হবে এবং তাঁরা বিকল্প কোন স্বাস্থ্যবিমার জন্য যোগ্য হতে পারেন, তা নির্ধারণে রাজ্য কাজ করবে। সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে সাধারণভাবে গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দা, নির্দিষ্ট শ্রেণির কিউবান ও হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশনের আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ফেডারেল অর্থায়ন বহাল থাকবে। তবে আয়, বাসস্থান ও অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
অন্যদিকে শরণার্থী, আশ্রয়প্রাপ্ত ব্যক্তি, নির্দিষ্ট প্যারোলে প্রবেশকারী এবং মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিরা শুধু ওই অভিবাসন মর্যাদার ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেইডের ফেডারেল অর্থায়ন পাবেন না। তবে তাঁদের অন্য কোনো যোগ্য অভিবাসন মর্যাদা থাকলে বা কোনো ব্যতিক্রম প্রযোজ্য হলে সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে আগে আশ্রয় পাওয়া ব্যক্তিরা পরে গ্রিন কার্ড পেয়ে থাকলে তাঁদের বর্তমান মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ হবে। নিউইয়র্কে ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ হওয়া মানেই সবার স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এনওয়াই হেলথ অ্যাকসেসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ফেডারেল অর্থায়নে মেডিকেইডের যোগ্যতা হারালেও অনেক বৈধ অভিবাসী নিউইয়র্কের নিজস্ব অর্থায়নে কভারেজ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নিউইয়র্কের আদালতের আলিয়েসা বনাম নভেলো সিদ্ধান্ত এবং রাজ্যের অভিবাসী স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিধানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সবার ক্ষেত্রে কভারেজ একইভাবে অব্যাহত থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই। আয়, বর্তমান অভিবাসন মর্যাদা এবং কভারেজের ধরন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আলাদা হতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্ষেত্রেও শুধু ওয়ার্ক পারমিট থাকার ভিত্তিতে মেডিকেইড থাকবে বা বন্ধ হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। বর্তমান অভিবাসন মর্যাদা এবং স্বাস্থ্যবিমা কোন অর্থায়নের আওতায় রয়েছে, তা বিবেচনা করতে হবে। সিএমএসের নির্দেশনায় সম্ভাব্য প্রভাবিত ব্যক্তিদের যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করতে রাজ্যগুলোকে বলা হয়েছে। পুরোনো নথিতে আগের অভিবাসন মর্যাদা থাকলেও বর্তমানে তা পরিবর্তিত হয়ে থাকলে হালনাগাদ নথি গুরুত্বপূর্ণ হবে। যোগ্যতা নিশ্চিত করতে না পারলে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত তথ্য চাইতে পারে।
শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের জন্য পৃথক ব্যতিক্রম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিকল্প গ্রহণকারী রাজ্যে আইনসম্মতভাবে বসবাসরত যোগ্য শিশু ও গর্ভবতী ব্যক্তিদের কভারেজ বহাল থাকতে পারে। জরুরি চিকিৎসার জন্য ইমার্জেন্সি মেডিকেইডের সুযোগও রয়েছে, যদিও এটি নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যবিমার সমতুল্য নয়। কভারেজ বন্ধ বা সুবিধা কমানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগাম নোটিশ দিতে হবে। নোটিশে সিদ্ধান্তের কারণ, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং আপত্তি বা পর্যালোচনার সময়সীমা দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
এনওয়াই স্টেট অব হেলথ সুবিধাভোগীদের ফোন নম্বর, ইমেইল ও বাসার ঠিকানা হালনাগাদ রাখতে বলেছে। অনলাইন অ্যাকাউন্ট, এনরোলমেন্ট সহায়তাকারী অথবা কাউন্টির সোশ্যাল সার্ভিসেস কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহায়তা নেওয়া যাবে। অক্টোবরের পরিবর্তনটি অভিবাসন মর্যাদাভিত্তিক মেডিকেইড যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত। আগামী জানুয়ারি থেকে কিছু প্রাপ্তবয়স্কের জন্য চালু হতে যাওয়া কাজসংক্রান্ত শর্তটি আলাদা পরিবর্তন। তাই কোনো নোটিশ পেলে কোন নিয়মের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
মন্তব্য করুন