ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার বিরোধিতা ঘিরে স্পেন ও ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ইসরায়েল থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্পেন।
বুধবার (১১ মার্চ) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় স্পেন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত স্পেনের সরকারি গেজেটে ইসরায়েলে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের পদ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আপাতত তেল আবিবে দেশটির দূতাবাস একজন ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ বা অন্তর্বর্তীকালীন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই স্পেন ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যেতে থাকে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য ইসরায়েলি অস্ত্র বহনকারী কোনো বিমান বা জাহাজকে স্পেনের আকাশসীমা ও বন্দর ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মাদ্রিদ। এই সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ পদক্ষেপ বলে আখ্যা দেন।
এর আগে, গত মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলে প্রতিবাদ হিসেবে ইসরায়েলও স্পেন থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে বর্তমানে দুই দেশেই দূতাবাসগুলো অন্তর্বর্তীকালীন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
এরই মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। চলতি মার্চের শুরুতে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার যুদ্ধের বিরোধিতা করায় স্পেনকে ‘স্বৈরশাসকদের সহযোগী’ বলে অভিযোগ করেন।
মন্তব্য করুন