বাংলা সংবাদ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় সৈন্য মোতায়েন শুরু

গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অচলাবস্থায় পৌঁছানোর পর দ্বীপটিতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনা মোতায়েন শুরু হয়েছে। ফ্রান্স, জার্মানি ও আরও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সেনারা আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপের নিরাপত্তা জোরদারে গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছাতে শুরু করেছেন।

 

 

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্স ইতোমধ্যে ১৫ জন এবং জার্মানি ১৩ জন সেনা পাঠিয়েছে। এ উদ্যোগে নরওয়ে ও সুইডেনও অংশ নিচ্ছে। এই মিশনকে ‘রিকগনিশন অব দ্য টেরিটরি’ বা ভূখণ্ডের উপস্থিতি জানানোর প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, প্রথম ফরাসি সামরিক দল ইতোমধ্যেই পথে রয়েছে, আরও সদস্য যোগ দেবে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটির মাউন্টেন ইনফ্যান্ট্রি ইউনিটের সেনারা ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে পৌঁছেছে। দুই দিনের এই মিশনের মাধ্যমে প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় সেনাদের দ্রুত মোতায়েনের সক্ষম প্রদর্শন করা হবে।

এদিকে জার্মানির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১৩ সদস্যের একটি গোয়েন্দা ও পর্যবেক্ষণ দল গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ডেনমার্ক জানিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ডে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াবে। একই দিনে ওয়াশিংটন ডিসিতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত ছিলেন।

 

 

এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের অভিপ্রায় থেকে ওয়াশিংটনকে সরে আসতে রাজি করানো যায়নি বলে জানিয়েছেন ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন। তিনি বলেন, আমরা আমেরিকার অবস্থান বদলাতে পারিনি। এটা স্পষ্ট যে প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান। বৈঠকের পর ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমাদের সত্যিই গ্রিনল্যান্ড দরকার। আমরা সেখানে না গেলে রাশিয়া যাবে, চীন যাবে। ডেনমার্ক কিছুই করতে পারবে না, কিন্তু আমরা সবকিছু করতে পারি।

 

 

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উপস্থিতি ও খনিজ সম্পদ আহরণের পরিকল্পনায় স্থানীয় ইনুইট জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্বীপটির পশ্চিমাঞ্চলের ইলুলিসাত শহরের ইনুইট বাসিন্দারা তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। বুধবারের বৈঠকের আগে আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইলুলিসাত আইসফিয়র্ড ভিজিটর সেন্টারের প্রধান কার্ল স্যান্ডগ্রিন বলেন, আমার আশা, আলোচনায় রুবিও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাবেন।তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ আলাদা। আমরা ইনুইট, হাজার হাজার বছর ধরে এখানে বাস করছি। এটা আমার মেয়ে ও ছেলের ভবিষ্যৎ। এটা কেবল সম্পদের কথা ভাবা মানুষের ভবিষ্যৎ নয়।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে

এবার ‘নীরব কৌশলে’ চলছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী বিরোধী অভিযান

মিশিগানের বাঙালি কমিউনিটির গর্ব, ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা

মহামারির প্রভাব এখনো ভিসা ব্যবস্থায়, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রগামী লাখ লাখ অভিবাসীরা

নিউইয়র্কে ভাড়া ফ্রিজের দাবিতে বিক্ষোভ, দুই বছরের লিজেও স্থগিতের সম্ভাবনা

বিশ্বকাপ বয়কট করলে বড় কূটনৈতিক সুযোগ হারাবে ইরান

বড়লেখায় পৌর প্রশাসকের সাথে নবগঠিত ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় 

শান্তিচুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের উত্তর দিয়েছে তেহরান

মিশিগানে শিশুদের চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন

চাইল্ড সাপোর্ট বকেয়া, হাজারো অভিভাবকের পাসপোর্ট বাতিল শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র: এপি

১০

হান্টাভাইরাস নিয়ে সতর্কতা, কতটা ভয় আছে মহামারির

১১

জাতিসংঘ ফোরামে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

১২

বিশ্বজুড়ে হান্টাভাইরাস আতঙ্ক, সতর্কবার্তা দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

১৩

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিমানবহরে আসছে কাতারের উপহারের বিমান

১৪

অ্যাসাইলাম প্রার্থীদের জন্য নতুন শর্ত, বার্ষিক ফি না দিলে আবেদন বাতিল

১৫

কেবল নিউজের জনক ও সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নারের মৃত্যু

১৬

যুক্তরাষ্ট্রে নিহত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পাচ্ছেন মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি

১৭

ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে ওহাইও গভর্নর দৌড়ে রিপাবলিকান প্রার্থী

১৮

জলপথ সচল করতে জাতিসংঘে হরমুজ নিয়ে প্রস্তাব

১৯

বড়লেখায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৬

২০