যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ২৫০ দিনের মধ্যেই দেশ থেকে ২০ লাখের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছেন, আর আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে ৪ লাখেরও বেশি মানুষকে।
ডিএইচএস-এর সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন বলেন, “সংখ্যাগুলোই প্রমাণ করে, ২৫০ দিনের মধ্যে ২০ লাখ অবৈধ অভিবাসী অপসারণ ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও সেক্রেটারি নোমের নেতৃত্বের সফলতা। আমরা আমেরিকান সমাজকে নিরাপদ করতে পেরেছি।” তিনি আরও জানান, অপরাধে জড়িত সবচেয়ে বিপজ্জনক অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টানা চার মাস ধরে কোনো অবৈধ অভিবাসীকে প্রবেশের পর মুক্ত করা হয়নি। জাতিসংঘের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, মধ্য আমেরিকা থেকে অবৈধ অভিবাসন ৯৭ শতাংশ কমে গেছে। এছাড়া প্রায় অর্ধেক সম্ভাব্য অভিবাসী যাত্রা শুরু করার আগেই ভয়ে পিছিয়ে গেছেন।
অভিযানকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন কয়েকটি আটককেন্দ্র চালু করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালিগেটর আলকাত্রাজ, স্পিডওয়ে স্ল্যামার, কর্নহাস্কার ক্লিঙ্ক এবং লুইজিয়ানা লকআপ। একইসঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে ৪০টি অঙ্গরাজ্যে ১ হাজারের বেশি চুক্তি (২৮৭-জি) সই করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাহিনীগুলো সরাসরি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে পারছে।
ডিএইচএস জানিয়েছে, অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর সব নতুন নিয়োগ কেবল মার্কিন নাগরিকদের জন্য সীমিত রাখা হয়েছে। এতে শুধু অভিবাসন নিয়ন্ত্রণই নয়, দেশীয় কর্মসংস্থান সুরক্ষাও নিশ্চিত হচ্ছে।
বিভাগটির ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ অভিবাসী বহিষ্কার প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও কঠোর করবে। একইসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত “শূন্য সহনশীলতা” নীতিকে আরও দৃঢ় করবে।
মন্তব্য করুন