ভারত: কে হচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা?

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছিল। তখন ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে দলটির সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের ঘুরে দাঁড়ানোর বড় কৃতিত্ব রাহুলের বলেই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাই কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে চান দলটির অনেক নেতা।

 

দলীয় সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, বুধবার (০৫ জুন) কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাড়িতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচনের বিষয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি। তবে ঘরোয়া আলোচনায় দলের নেতারা অনেকে রাহুল গান্ধীকে বিরোধীদলীয় নেতা বানানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

 

বৈঠকের আগে উদ্ধব ঠাকুরের শিবসেনার নেতা সঞ্জয় রাউত বলেন, আগামীবার ইন্ডিয়া জোট সরকার গঠন করতে পারলে সেই সরকার ব্যবস্থায় রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হতে রাজি থাকলে এ নিয়ে তাদের আপত্তি থাকবে না।

 

দলীয় নেতারা বলেন, বিরোধীদলের প্রধানকে সিবিআই প্রধান, লোকপাল এবং মুখ্য ভিজিল্যান্স কমিশনার নিয়োগের বাছাই কমিটির বৈঠকে যেতে হয়। এসব জায়গায় প্রধান বিচারপতি এবং প্রধানমন্ত্রীও থাকেন। ফলে রাহুল গান্ধী বিরোধীদলের নেতা হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখোমুখি হয়ে নিজের মত বা আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরতে পারবেন।

 

কংগ্রেসের আরেক অংশের মতে, রাহুল গান্ধী সারা দিন সংসদে থাকার লোক নন। ফলে তার জন্য বিরোধীদলের প্রধানের ভূমিকা পালন করা কঠিন। তিনি সংসদে বসে থাকার বদলে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বিষয়ে আগ্রহী। এবারের নির্বাচনে গতবারের চেয়ে ৪৭টি আসন বেশি পেয়েছে কংগ্রেস। তবে বেশকিছু জায়গায় সাংগঠনিক দুর্বলতা স্পষ্ট। ফলে মাঠে সংগঠন মজবুত করার কাজে নিয়োজিত হওয়া তার জন্য বেশি বাস্তবিক।

 

২০১৪ এবং ২০১৯ সালের নির্বাচনে লোকসভায় কোনো বিরোধীদলের নেতা ছিলেন না। ওই সময়ে কংগ্রেস বৃহত্তম বিরোধীদল হলেও বিরোধীদলনেতা হওয়ার মতো আসন পায়নি তারা। কেননা বিরোধীদলের নেতা হিসেবে পার্লামেন্টে জায়গা পেতে হলে লোকসভার মোট আসনের ১০ শতাংশ জিততে হবে। ফলে প্রথম মেয়াদে মল্লিকার্জুন এবং দ্বিতীয় মেয়াদে অধীর চৌধুরী বিরোধীদলনেতা ছিলেন।

 

এবারের নির্বাচনে অধীর হেরে গেছেন। কেবল তিনি নয়, মধ্যপ্রদেশে দিগ্বিজয় সিংহ, ছত্তিশগড়ের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বঘেল, রাজস্থানের সি পি জোশি এবং হিমাচলে আনন্দ শর্মার মতো প্রবীণ নেতারাও হেরে গেছেন। ফলে রাহুল গান্ধী রাজি না হলে কংগ্রেসের জোট ইন্ডিয়ার নেতা কে হবেন তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

 

উল্লেখ্য, ভারতের ৫৪৩ আসনের এবারের লোকসভার নির্বাচনে কোনো দলই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ পেয়েছে ২৯৩ আসন। অপরদিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২৩৩ আসন।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সড়ক দূঘর্টনায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডের উপ-ব্যবস্থাপক মঈনুল হোসেন নিহত

হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

‌‌আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করে মন্তব্য করেছে কানাডার একটি প্রতিষ্ঠান

বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাডভোকেসি ডে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে : সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ

বাংলাদেশে ওয়াই-ফাই ৭ নিয়ে এলো হুয়াওয়ে

লড়াই করেও বাংলাদেশের হার, সুপার এইট নিশ্চিত করল দক্ষিণ আফ্রিকা

নেদারল্যান্ডস: বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার তারেক মুহাম্মদ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মোদি

বিডিআরইএন ও হুয়াওয়ের আয়োজনে স্মার্ট এডুকেশন ওয়ার্কশপ

ফিতনা থেকে পলায়ন দ্বীনেরই একটি অংশ

১০

রুশ-নিয়ন্ত্রিত লুহেনস্ক এবং খেরসন অঞ্চলে ইউক্রেনের হামলায় ২৬ জন নিহত

১১

এক দশক পর বিরোধী দলনেতা পাচ্ছে ভারত, রাহুলের নামে প্রস্তাব পাশ

১২

স্ট্রেস কমাতে যা খাবেন

১৩

অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন

১৪

মিশিগানে সংবর্ধিত হলেন এফবিসিসিআই এর পরিচালক ইশহাকুল হোসেন সুইট

১৫

জাতিসংঘে ৩ বছর মেয়াদি ইকোসোক নির্বাচনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জয়ী বাংলাদেশ

১৬

পাকিস্তানকে সুপার ওভারে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস

১৭

৬০০ ছক্কার রেকর্ড রোহিতের

১৮

সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ১৬ জুন

১৯

ভারত: কে হচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতা?

২০