মিশিগানের হল্যান্ড শহরে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। আনন্দ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অপূর্ব সম্মিলনে প্রবাসী বাঙালিদের অংশগ্রহণে এ আয়োজন রূপ নেয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়।
উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল বচিএ্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে অংশ নেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী বার্নাডেট শুভ্রা গোমেজ ও দেবাংশু হোরসহ স্থানীয় প্রবাসী শিল্পীরা। তাঁদের পাশাপাশি লিলিয়ান গ্রেগরি, সুইটি রোজারিও, সুবির ক্রুজ, মাইকেল রয়, সোনালী বদ্য, পূর্ণিমা অ্যানি, ইরা, মেরি সমৃদ্ধি হোর, সিনথিয়া ক্রুজ, লিলি রয় ধর, ইমি গাইন, গুনগুন ও গুঞ্জনসহ অনেকে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাট্যাংশ পরিবেশন করেন।
বিশেষভাবে দর্শকদের মুগ্ধ করে বার্নাডেট শুভ্রা গোমেজের অভিনয় এবং কবি লিলিয়ান গ্রেগরির রচিত কবিতা আবৃত্তি। এছাড়া শিশু শিল্পীদের প্রাণবন্ত নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানে যোগ করে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও প্রাণচাঞ্চল্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্যাস্টর সোফাট ডাচ ও তাঁর পরিবার এবং তেনজির খান লিঙ্কন ও তাঁর পরিবার। সমবেত সংগীত, দেশাত্মবোধক ও লোকসংগীতের পরিবেশনা প্রবাসে থেকেও মাতৃভূমির আবহকে জীবন্ত করে তোলে।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি ছিল শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম- খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আকর্ষণীয় র্যাফেল ড্র, যা অনুষ্ঠানে এনে দেয় বাড়তি আনন্দ।
পুরো অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন জর্জ মিলান। আয়োজন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জর্জ মিলান গাইন, মাইকেল রয়, সুবির ক্রুজ, দেবাংশু হোর, যশুয়া খন্দকার, শ্যামল ধর ও লিনুস টলেন্টিনু।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ছিল দেশীয় খাবারের আয়োজন, যেখানে পরিবেশিত হয় পান্তা-ইলিশ, বিভিন্ন ভর্তা, খিচুড়ি, মাংসের পদ এবং মিষ্টান্ন হিসেবে পায়েস, রসগোল্লা ও মিষ্টি দই। প্রবাসের মাটিতে এমন ঐতিহ্যবাহী খাবারের সাদ উপস্থিত সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়।
মন্তব্য করুন