১১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিতে অভিবাসী পরিবারের স্বাস্থ্যসেবা সংকটে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বসবাস করছে প্রায় ৫০ মিলিয়নের বেশি অভিবাসী। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন সীমাবদ্ধকরণ নীতি ও নতুন বাজেট বাস্তবায়ন অভিবাসী পরিবারগুলোর জীবনে নেমে এসেছে এক গভীর সংকট। সবচেয়ে বেশি ভুগছে অভিবাসী পরিবারের শিশু ও প্রবীণ সদস্যরা, যাদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা এখন আর আগের মতো সহজলভ্য নয়।

 

 

২০২৫ সালের নতুন কর ও বাজেট আইনের ফলে মেডিকেড, শিশু স্বাস্থ্য বীমা প্রোগ্রামসহ সরকারি স্বাস্থ্যসেবার যোগ্যতা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। বর্তমানে শুধু স্থায়ী বৈধ অধিবাসী, কিউবান ও হাইতিয়ান শরণার্থী এবং নির্দিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকরাই এসব সুবিধা পাচ্ছেন। এর ফলে শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী, টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাসধারী এবং কর্মভিসাধারী অনেক মানুষই স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

 

অভিবাসন নীতির কঠোর বাস্তবায়নও নতুন ভয় সৃষ্টি করেছে। দেশজুড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল ও ধর্মীয় স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে, যা অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। অনেক পরিবার আশঙ্কায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছে। বিশেষ করে যাদের আইনি অবস্থান অনিশ্চিত, তারা চিকিৎসা নিতে বা শিশুকে স্কুলে পাঠাতেও দ্বিধাগ্রস্ত।

 

 

ভাষাগত সহায়তার অভাবও অভিবাসীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংরেজিতে দুর্বল অনেক অভিবাসী প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় চিকিৎসা সেবা গ্রহণে অসুবিধায় পড়ছেন। এর পাশাপাশি মানসিক চাপ বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, অভিবাসীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জানিয়েছেন যে নিজের বা পরিবারের অভিবাসন স্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নীতিমালার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে। স্বাস্থ্যসেবায় সীমাবদ্ধতা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কারণ, কৃষি, নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও হসপিটালিটি খাতসহ যুক্তরাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প অভিবাসী শ্রমের ওপর নির্ভরশীল।

 

 

সমাজবিজ্ঞানী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “স্বাস্থ্যসেবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া মানে একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।” তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নীতি পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং অভিবাসীদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা হোক।

 

 

অভিবাসীদের অবদান আমেরিকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তাদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় সবার সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

গেমস্টপের ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ইবে

আইসের ‘নো-বন্ড’ নীতি বাতিল, জামিনে মুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন অভিবাসীরা

মৌলভীবাজার শহরে ছয় তলা ভবন থেকে তরুণীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জরুরি সেবায় কাটছাঁট নয়, ১২৪.৭ বিলিয়ন ডলারের বাজেট আনলো নিউইয়র্ক সিটি

কোভিডকালে ট্যাক্স ফাইলিংয়ে জরিমানা দেওয়া ব্যক্তিদের রিফান্ডের সম্ভাবনা

ফেন্টানাইল চক্রে জড়িত অভিযোগ, ভারতীয় প্রতিষ্ঠানসহ ১৩ জনকে নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

ভিসা আবেদনের ব্যাংক স্টেটমেন্টে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘কিউআর কোড’

ইরান সংঘাতের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কংগ্রেসে তোপের মুখে পেন্টাগন প্রধান

পাকিস্তানের বিপক্ষে ধারাবাহিক সাফল্য, নাহিদের নৈপুণ্যে মিরপুরে রেকর্ডের দিন

সবার আগে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করে চমক দিল বসনিয়া

১০

‘লাইফ সাপোর্টে’ চলছে ইরান যুদ্ধবিরতি, দাবি ট্রাম্পের

১১

জর্জিয়ায় শেখ রহমানের পুনর্নির্বাচনী প্রচারণায় বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যাপক সাড়া

১২

স্বস্তি পেতে পারেন লাখো চালক, নিউইয়র্কে অটো বিমা খাতে বড় পরিবর্তন

১৩

বাংলা সাহিত‍্য পরিষদের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান স্বাধিনতা দিবস উদযাপন

১৪

ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে

১৫

এবার ‘নীরব কৌশলে’ চলছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী বিরোধী অভিযান

১৬

মিশিগানের বাঙালি কমিউনিটির গর্ব, ১.৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি নিয়ে হার্ভার্ডে অনন্যা

১৭

মহামারির প্রভাব এখনো ভিসা ব্যবস্থায়, বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রগামী লাখ লাখ অভিবাসীরা

১৮

নিউইয়র্কে ভাড়া ফ্রিজের দাবিতে বিক্ষোভ, দুই বছরের লিজেও স্থগিতের সম্ভাবনা

১৯

বিশ্বকাপ বয়কট করলে বড় কূটনৈতিক সুযোগ হারাবে ইরান

২০