যুক্তরাষ্ট্রে চলতি কর মৌসুমে বড় অঙ্কের ট্যাক্স রিফান্ড এবং শেয়ারবাজারে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর দাবি সামনে এনে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কর নীতি ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ফলে সাধারণ কর্মজীবী পরিবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মধ্যে এ দাবি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে গড় ট্যাক্স রিফান্ড ৩ হাজার ৪০০ ডলারের বেশি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। ওয়ার্কিং ফ্যামিলিস ট্যাক্স কাটস এবং নো ট্যাক্স অন টিপস অ্যান্ড ওভারটাইম নীতির ফলে এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে লাখ লাখ কর্মজীবী পরিবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা পেয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ বলছেন, রিফান্ডের পরিমাণ বাড়া মানেই করদাতারা বাস্তবে বেশি আয় করছেন—এমনটি সব সময় নয়। অনেক ক্ষেত্রে কর কর্তনের কাঠামো এবং বছরের মধ্যে অতিরিক্ত কর কেটে রাখার কারণেও রিফান্ডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বিষয়টিকে সরাসরি আয় বৃদ্ধির সূচক হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
একই সময়ে প্রশাসনের দাবি, এস অ্যান্ড পি ৫০০ সূচক ৭ হাজার পয়েন্ট অতিক্রম করে সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করেছে। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এটি তাদের অর্থনৈতিক নীতির প্রতি বাজারের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া। তবে বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজারের উত্থান একাধিক কারণে হতে পারে। করপোরেট আয় বৃদ্ধি, সুদের হার নীতি, বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রবণতা—সবকিছু মিলিয়েই বাজারের অবস্থান নির্ধারিত হয়। তাই একে এককভাবে সরকারি নীতির ফল হিসেবে দেখা কিছুটা সরলীকরণ হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
সপ্তাহজুড়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে গুরুতর মানসিক রোগের চিকিৎসা দ্রুততর করতে নির্বাহী আদেশ জারি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি সাইকেডেলিকস, মেডিকেল মারিজুয়ানা এবং ক্যানাবিডিওল গবেষণায় বাধা কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের ইকোনমিক রিপোর্ট প্রকাশ এবং অভিবাসন আদালতে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত পদক্ষেপও প্রশাসনের আলোচনায় রয়েছে। জ্বালানি খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বকে প্রশাসন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার একটি প্রধান উপাদান হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারের বাস্তবতা আরও জটিল এবং এতে ভূ-রাজনৈতিক নানা উপাদান জড়িত। ফলে এ ক্ষেত্রেও সরল ব্যাখ্যার সুযোগ সীমিত।
এদিকে প্রশাসন জনমত যাচাইয়ের জন্য একটি জরিপও চালু করেছে, যেখানে নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে বর্তমান অর্থনৈতিক নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করছে কি না। সামগ্রিকভাবে, বড় ট্যাক্স রিফান্ড এবং শেয়ারবাজারের রেকর্ড উচ্চতা প্রশাসনের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করলেও এর পেছনের বাস্তব কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক সূচকগুলোর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের ওপর।
মন্তব্য করুন