যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিতে এবং বিদেশি সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ এই ভিসা কার্যক্রম তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে।
‘এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি উত্থাপন করেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন। তার সঙ্গে আরও সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এ বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত বিলে আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু না করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বার্ষিক ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার থেকে কমিয়ে ২৫ হাজারে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
এছাড়া এইচ-১বি ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বার্ষিক বেতন ২ লাখ মার্কিন ডলার নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। ভিসাধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের এইচ-৪ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান লটারি পদ্ধতি বাতিল করে সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা প্রদানের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এইচ-১বি ভিসা থাকা অবস্থায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সুযোগ বন্ধ করার বিষয়টি বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বিলের উদ্যোক্তা এলি ক্রেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত বড় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া। তার ভাষায়, এই বিলটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলটি আইনে পরিণত হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও বাংলাদেশের আইটি পেশাজীবীরা। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন।
তবে বিলটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি কার্যকর আইনে পরিণত হতে হলে কংগ্রেস ও সিনেটের দীর্ঘ প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হবে। ফলে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন না এলেও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিদেশি কর্মীদের মধ্যে। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এত কঠোর নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো দক্ষ ও মেধাবী কর্মী সংকটে পড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশটির প্রযুক্তি শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন