প্রবাস জীবনে মৃত্যুপূর্ব ও মৃত্যুর পরবর্তী সেবাকে ঘিরে নানা জটিলতা, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক সংকট মোকাবিলায় মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্যোগে একটি মানবিক ও সামাজিক সংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা সভায় অংশগ্রহণকারীদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রস্তাবিত সংগঠনের প্রাথমিক নাম নির্ধারণ করা হয়েছে “অন্তিম সেবা ফাউন্ডেশন”।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ দেবাশীষ মৃধা, চিনু মৃধা, পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু, চিন্ময় আচার্য্য, মৃদুল কান্তি সরকার, গৌতম চৌধুরী, মৌসুমী দত্ত, রাজর্ষি চৌধুরী গৌরব এবং সৌরভ ধর চৌধুরী সম্রাট। সভায় বক্তারা বলেন, প্রবাসে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মর্যাদাপূর্ণ অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ব্যবস্থা, জরুরি সহায়তা এবং সংকটকালীন সহযোগিতার একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই এই ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধ জোরদারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য একটি টেকসই ও মানবিক সহায়তা ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে।
প্রস্তাবিত এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হবে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান হিন্দু সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের সম্মতিক্রমে তার সৎকারের যাবতীয় কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। ভবিষ্যতে একটি স্বতন্ত্র সমাধিস্থল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও সভায় জানানো হয়। সেখানে প্রয়াতদের স্মরণে নাম-ঠিকানাসহ স্মারক ফলক স্থাপনের সুযোগ থাকবে, যা স্বজনদের জন্য স্থায়ী শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থান হিসেবে কাজ করবে।
সংগঠনের কার্যক্রমকে সুসংগঠিত ও টেকসই করতে একটি প্রাথমিক বাইলজ প্রণয়ন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন গৌতম চৌধুরী (সিপিএ)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন চিনু মৃধা, পূর্ণেন্দু চক্রবর্তী অপু এবং মৃদুল কান্তি সরকার।
উদ্যোক্তারা জানান, “অন্তিম সেবা ফাউন্ডেশন”কে একটি নির্ভরযোগ্য, মানবিক ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে মিশিগানের বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে। সকলের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে উদ্যোগটিকে একটি স্থায়ী রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন